বিনা নোটিশেই চাকরিচ্যুত আরটিভির সাংবাদিক মাহফুজ উদ্দিন খান, সাংবাদিক সমাজে ক্ষোভ

বিনা নোটিশেই চাকরিচ্যুত আরটিভির সাংবাদিক মাহফুজ উদ্দিন খান, সাংবাদিক সমাজে ক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক

আরটিভির অনলাইন বিভাগের সাংবাদিক মাহফুজ উদ্দিন খান দাবি করেছেন, তাঁকে কোনো কারণ দর্শানোর নোটিশ বা শোকজ ছাড়াই অন্যায়ভাবে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) তিনি বিষয়টি নিয়ে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক স্ট্যাটাসে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

স্ট্যাটাসে মাহফুজ লিখেছেন, ‘টিভি রিপোর্টার নিউজটি গ্রুপে পাঠিয়েছিলেন। আমি শুধু সাব এডিট করে নিউজটি অনলাইনে ছেড়েছি। “শিবিরের নিউজ” প্রকাশ হয়েছে—এই অজুহাতে আমাকে শোকজ না করেই সরাসরি টার্মিনেট করা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে এই অন্যায় করা হয়েছে।’

তিনি আরও লিখেছেন, ‘যদি আমি ওই ঊর্ধ্বতনের নাম বলি, আমাকে হয়তো গুম করে ফেলা হতে পারে। কোন ধরনের কারণ দর্শানোর সুযোগ না দিয়েই আমাকে “গুপ্ত শিবির” ট্যাগ দিয়ে চাকরি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। খুব অসহায় লাগছে।’

মাহফুজ দাবি করেন, ওই নিউজটি পাঠানো টিভি রিপোর্টারেরও পরে চাকরি চলে গেছে। তাঁর ভাষায়, ‘নিউজ দিল টিভির রিপোর্টার, আর চাকরি গেল আমার।’

তিনি বলেন, আগে থেকেই তাঁকে মানসিকভাবে বারবার চাপ দেওয়া হচ্ছিল যাতে তিনি নিজে থেকে পদত্যাগ করেন। ‘আমি একজন পেশাদার সাংবাদিক। ১১ বছর ধরে এ পেশায় আছি। ঢাকা সাব এডিটরস কাউন্সিলের সদস্য, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন ও ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির অনেক নেতা আমাকে চেনেন,’ লিখেছেন তিনি।

স্ট্যাটাসে মাহফুজ উল্লেখ করেন, তিনি ‘মুক্ত গণমাধ্যম মঞ্চ’ নামের সংগঠনের নির্বাচিত সভাপতি ছিলেন, বর্তমানে সংগঠনটির নির্বাহী কমিটিতে রয়েছেন। তাঁর দাবি, দেশের বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের শীর্ষ নেতারা তাঁর ওপর ঘটে যাওয়া ঘটনাটি জানেন।

তিনি আরও লিখেছেন, ‘এক দিনের ব্যবধানে কোন ধরনের কারণ দর্শানোর নোটিশ ছাড়াই সাংবাদিকদের চাকরি খাওয়া যদি এত সহজ হয়, তাহলে আজ আমার সঙ্গে হয়েছে, কাল অন্য কারও সঙ্গে হবে।’

নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে মাহফুজ আরও লেখেন, ‘আমি জানি, এই স্ট্যাটাস দেওয়ার পর আমাকে মেরে ফেলা বা গুম করা হতে পারে। তবুও ওদের হাতে মরার আগে আপনাদের জানিয়ে রাখলাম—আপনাদেরই একজন ভাইয়ের উপর জুলুম করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘ইনসাফের এই লড়াই থেকে আমি পিছু হটব না। সাংবাদিকদের পেশাদার মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমার জীবন দিতে হলেও রাজি।’

মাহফুজ তাঁর স্ট্যাটাসে সাংবাদিক সংগঠনগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, তাঁকে ঘিরে যে জুলুমের অভিযোগ উঠেছে, সে বিষয়ে নীরব না থেকে তদন্ত ও পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য।

এ বিষয়ে মুক্ত গণমাধ্যম মঞ্চের বর্তমান সভাপতি শিমুল পারভেজ ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, জুলাইবিপ্লবের পরবর্তী সময়ে দুজন পেশাদার সাংবাদিককে এভাবে টারমিনেট করা কোন ভাবেই মেনে নেয়া যায় না। আমরা আর দুদিন দেখবো, যদি আরটিভি কর্তৃপক্ষ বিষয়টির সুরাহা না করে তাহলে আমরা সকলকে সদর সাংবাদিকদের নিয়ে আন্দোলনে যাবো।

ক্ষোভ জানিয়ে বিপ্লবী সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতা হাবিবুল্লাহ মিজান বলেন, বিদ্যমান সাংবাদিক ইউনিয়ন প্রতিপক্ষ ইউনিয়ন কিংবা মতাদর্শের কোনো সাংবাদিককে রাস্তায় মেরে ফেললেও ফিরে তাকাতে চান না। বিপ্লবী সাংবাদিক ইউনিয়ন সাংবাদিককে সাংবাদিক হিসেবেই দেখতে চায়। একজন সাংবাদিক ব্যক্তিগতভাবে ডানপন্থী, বামপন্থী কিংবা মধ্যপন্থী সমর্থক হতে পারেন।বিপ্লবী সাংবাদিক ইউনিয়ন ধর্ম কিংবা রাজনৈতিক মতাদর্শ ভুলে সাংবাদিকের পাশেই থাকতে চেষ্টা করবে। আমরা আরটিভি কর্তৃপক্ষকে বলবো দ্রুত সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করুন। অন্যথায় আমরা আন্দোলনে নামবো।

আরটিভি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এ বিষয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

BD Short News 24

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *