কার্যাদেশ ও বিনিয়োগে মন্দা, ব্যাক টু ব্যাক এলসি খোলায় খরা

কার্যাদেশ ও বিনিয়োগে মন্দা, ব্যাক টু ব্যাক এলসি খোলায় খরা

বিদেশের বাজারে বাংলাদেশি পোশাকের ক্রয়াদেশ কমে গেছে। সেই সঙ্গে দেশে নতুন বিনিয়োগ ও কাঁচামাল আমদানিতেও পড়েছে ভাটা। ফলে রপ্তানি শিল্পের কাঁচামাল আনার জন্য ‘ব্যাক টু ব্যাক’ ঋণপত্র বা এলসি খোলায় বড় ধরনের খরা দেখা দিয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে (জুলাই-মার্চ) কাঁচামাল আমদানির এলসি খোলা ও নিষ্পত্তি- উভয়ই আগের বছরের তুলনায় কমেছে। এই ৯ মাসে এলসি খোলা কমেছে প্রায় ১১ শতাংশ এবং নিষ্পত্তি কমেছে প্রায় ৮ শতাংশ।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, তৈরি পোশাক খাত এখন বহুমুখী সংকটের মুখে। বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, বিশ্বজুড়ে যুদ্ধাবস্থা, জ্বালানির দাম বৃদ্ধি আর ইউরোপের বাজারে মানুষের কেনাকাটা কমে যাওয়ায় রপ্তানিতে বড় চাপ তৈরি হয়েছে। দেশেও গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট ও ঋণের চড়া সুদের কারণে নতুন বিনিয়োগ হচ্ছে না।

চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি খোলা হয়েছে ৭ দশমিক ৬৭ বিলিয়ন ডলারের। গত বছরের একই সময়ে এটি ছিল ৮ দশমিক ৬১ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে এলসি খোলা কমেছে ৯৪ কোটি ডলার।

তিনি আরও জানান, অর্ডারের অভাবে অনেক কারখানা এখন পূর্ণ ক্ষমতায় চলতে পারছে না।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব বলছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি খোলা হয়েছে ৭ দশমিক ৬৭ বিলিয়ন ডলারের। গত বছরের একই সময়ে এটি ছিল ৮ দশমিক ৬১ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে এলসি খোলা কমেছে ৯৪ কোটি ডলার। একইভাবে এলসি নিষ্পত্তিও কমেছে ৬৩ কোটি ডলার।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, দেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং বিদেশের বাজারে চাহিদা কমে যাওয়ায় এই নেতিবাচক অবস্থা তৈরি হয়েছে। এলসি কমার এই ধারা চললে ডলারের রিজার্ভের ওপর চাপ আরও বাড়বে।

“দেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং বিদেশের বাজারে চাহিদা কমে যাওয়ায় এই নেতিবাচক অবস্থা তৈরি হয়েছে। এলসি কমার এই ধারা চললে ডলারের রিজার্ভের ওপর চাপ আরও বাড়বে।”

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, ডলার সংকট ও দাম বাড়ার কারণে ব্যাংকগুলো এখন এলসি খোলার ক্ষেত্রে বেশ সতর্ক। অন্যদিকে, খরচ বেড়ে যাওয়ায় উদ্যোক্তারাও নতুন করে কাঁচামাল আমদানিতে আগ্রহ হারাচ্ছেন। মূলত বিদেশের বাজারে পোশাকের চাহিদা কমে যাওয়ায় নতুন অর্ডার কম আসছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে এলসি খোলার ওপর।

BD Short News 24

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *