এসএসসির ফলে জিপিএ-৫ নয়, মাঝারি ফলেই বেশি শিক্ষার্থী
২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে পাসের হার কমার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জিপিএভিত্তিক ফলেও ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। সর্বোচ্চ জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের তুলনায় জিপিএ-৪ থেকে ৫-এর নিচে পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় তিন গুণ বেশি।
এবার ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। অর্থাৎ প্রায় ৩৮ শতাংশ পরীক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১৮ লাখ ২৯ হাজারের বেশি। তাদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী, যা মোট পরীক্ষার্থীর ৬ দশমিক ৩৮ শতাংশ।
অন্যদিকে, জিপিএ-৪ থেকে ৫-এর নিচে পেয়েছে ১৮ দশমিক ৭৯ শতাংশ শিক্ষার্থী। অর্থাৎ জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের তুলনায় এই স্তরে থাকা শিক্ষার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
ফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, জিপিএ-৩ দশমিক ৫ থেকে ৪-এর নিচে পেয়েছে ১২ দশমিক ১৬ শতাংশ এবং জিপিএ-৩ থেকে ৩ দশমিক ৫-এর নিচে পেয়েছে ১২ দশমিক ৩৫ শতাংশ শিক্ষার্থী। এই দুই স্তর মিলিয়ে প্রায় এক-চতুর্থাংশ পরীক্ষার্থী মাঝারি মানের ফল করেছে।
এ ছাড়া জিপিএ-২ থেকে ৩-এর নিচে পেয়েছে ১২ দশমিক ৭ শতাংশ শিক্ষার্থী। আর জিপিএ-১ থেকে ২-এর নিচে পাওয়া শিক্ষার্থীর হার শূন্য দশমিক ৫২ শতাংশ।
শিক্ষাবিদ ও বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু পাসের হার কিংবা জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যা দিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত শিখন-অর্জন নির্ধারণ করা যায় না। বিভিন্ন জিপিএ স্তরে শিক্ষার্থীদের অবস্থান বিশ্লেষণ করলে শিক্ষার মান, প্রস্তুতি ও মূল্যায়নের বাস্তব চিত্র আরও স্পষ্ট হয়।
এবারের ফলাফলে বিশেষ করে ইংরেজি ও গণিতে শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা চোখে পড়েছে। বেশির ভাগ সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে ইংরেজিতে পাসের হার ৮০ শতাংশের নিচে নেমেছে। গণিতেও কয়েকটি বোর্ডে ফল তুলনামূলকভাবে দুর্বল হয়েছে। বাধ্যতামূলক এ দুটি বিষয়ে খারাপ ফল সামগ্রিক পাসের হার কমাতে ভূমিকা রেখেছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন।
ফলাফলে বিভাগভিত্তিক পার্থক্যও দেখা গেছে। মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের পাসের হার সবচেয়ে কম হওয়ায় সামগ্রিক ফলাফলেও এর প্রভাব পড়েছে।
শিক্ষাবিদদের মতে, পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে শুধু কে পাস করল বা কে জিপিএ-৫ পেল—এটুকুতে সীমাবদ্ধ না থেকে শিক্ষার্থীরা কী শিখেছে এবং কতটা শিখেছে, সেটিকেই শিক্ষার প্রকৃত মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা জরুরি।
