শেহবাজকে চিঠি দিলেন সাবেক ২১ ক্রিকেট অধিনায়ক

শেহবাজকে চিঠি দিলেন সাবেক ২১ ক্রিকেট অধিনায়ক

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিত মেডিকেল বোর্ডকে স্বাধীনভাবে ইমরানের স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন গাভাস্কার, চ্যাপেল, বোর্ডার, গাওয়ার, লয়েড, স্টিভ ওয়াহসহ সাবেক অধিনায়করা।

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও সাবেক বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ইমরান খানের স্বাস্থ্য নিয়ে আবারও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাবেক আন্তর্জাতিক অধিনায়করা। তার চিকিৎসা নিশ্চিত করতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের কাছে নতুন করে চিঠি লিখেছেন ২১ জন সাবেক অধিনায়ক। 

ছয় মাসের মধ্যে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কাছে সাবেক অধিনায়কদের এটি দ্বিতীয় আবেদন। চিঠিতে ইমরানের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসার ক্ষেত্রে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করার দাবি জানানো হয়েছে।

সাবেক অধিনায়কদের অভিযোগ, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী ইমরানকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও আদালতের নির্দেশিত মেডিকেল বোর্ড তার পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষা সম্পন্ন করার সুযোগ পায়নি।

চিঠিতে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট ইমরান খানকে এমন একটি মেডিকেল বোর্ডের মাধ্যমে পরীক্ষা করানোর নির্দেশ দিয়েছিল, যেখানে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক এবং তার বোন ড. উজমা খানও থাকার কথা ছিল। একই সঙ্গে আদালত সাপ্তাহিক পারিবারিক সাক্ষাতের সুযোগও পুনর্বহাল করেছিল।

তবে সাবেক অধিনায়করা উদ্বেগ প্রকাশ করে লিখেছেন, ইমরানের হাসপাতালে অবস্থান মাত্র কয়েক ঘণ্টা স্থায়ী হয়। আদালতের নির্দেশিত মেডিকেল বোর্ডের পরিবর্তে রাষ্ট্রনিযুক্ত একটি দল তাকে পরীক্ষা করে ‘চিকিৎসাগতভাবে সুস্থ’ ঘোষণা করে। এরপর আদালতের নির্দেশিত বোর্ড তাদের কাজ শেষ করার আগেই তাকে আদিয়ালা কারাগারে ফেরত পাঠানো হয়।

ইমরানের স্বাস্থ্য নিয়ে নিজেদের সর্বশেষ চিঠিতে তিনটি নির্দিষ্ট দাবি জানিয়েছেন সাবেক অধিনায়করা।

প্রথমত, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিত মেডিকেল বোর্ডকে ইমরানের স্বাস্থ্য নিয়ে পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীন মূল্যায়ন শেষ করার সুযোগ দিতে হবে। ওই বোর্ডে ইমরানের ব্যক্তিগত চিকিৎসকদেরও রাখতে হবে। বিশেষ করে তার ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি হারানোর যে খবর এসেছে, সেটির যথাযথ পরীক্ষা করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

দ্বিতীয়ত, আদালতের নির্দেশে পুনর্বহাল করা সাপ্তাহিক পারিবারিক সাক্ষাতের সুযোগ কোনো ধরনের বাধা বা প্রশাসনিক বিলম্ব ছাড়াই নিশ্চিত করতে হবে।

তৃতীয়ত, মেডিকেল বোর্ডের মূল্যায়নের ফলাফল যা-ই হোক না কেন, তাদের সুপারিশ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় চিকিৎসা যেন দ্রুত দেওয়া হয়।

ইমরানের স্বাস্থ্য নিয়ে সাবেক অধিনায়কদের এটি প্রথম উদ্যোগ নয়। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতেও ১৪ জন সাবেক অধিনায়ক পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি লিখেছিলেন। সে সময় ইমরানের চোখের সমস্যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন তারা।

ইমরানের পরিবারের দাবি ছিল, কারাগারে চিকিৎসায় অবহেলার কারণে তার এক চোখের দৃষ্টিশক্তি প্রায় সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। সেই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই সাবেক অধিনায়করা প্রথমবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন।

সর্বশেষ চিঠিতে স্বাক্ষরকারীরা অবশ্য স্পষ্ট করেছেন, তারা পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়ার অবস্থানে যেতে চান না। বরং ক্রিকেট মাঠে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের জায়গা থেকেই তারা ইমরানের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। ক্রিকেটেরসামগ্রী ও টিকিট অন্বেষণ করা

চিঠিতে তারা নিজেদের পরিচয় দিয়েছেন “রাজনীতিবিদ হিসেবে নয়, বরং ক্রিকেট মাঠে গড়ে ওঠা বন্ধন ভাগ করে নেওয়া সাবেক সতীর্থ ও প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে”।

২১ জন সাবেক অধিনায়কের এই তালিকায় রয়েছেন ক্রিকেটের বেশ কয়েকজন কিংবদন্তি। তাদের মধ্যে আছেন গ্রেগ চ্যাপেল, ইয়ান চ্যাপেল, অ্যালান বোর্ডার, সুনীল গাভাস্কার, ডেভিড গাওয়ার, ক্লাইভ লয়েড, অর্জুনা রানাতুঙ্গা, স্টিভ ওয়াহ ও জন রাইট।

এ ছাড়া মাইকেল আথারটন, অ্যালেক্স ব্ল্যাকওয়েল, মাইকেল ব্রিয়ারলি, বেলিন্ডা ক্লার্ক, অ্যালিস্টার কুক, মাইকেল গ্যাটিং, লি জার্মন, অ্যাডাম গিলক্রিস্ট, কিম হিউজ, নাসের হুসেইন, কপিল দেব, অ্যান্ড্রু স্ট্রস ও দিলীপ ভেংসরকারও চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন।

২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা ইমরান খান ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর একাধিক মামলায় কারাদণ্ড পেয়েছেন। দুর্নীতির বিভিন্ন মামলায় তাকে ১০, ১৪ ও ১৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

২০২৪ সালের নির্বাচনের আগে বিয়েসংক্রান্ত একটি মামলাতেও তাকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অভিযোগ ছিল, বর্তমান স্ত্রীকে বিয়ের আগে তার আগের বিবাহবিচ্ছেদের পর নির্ধারিত সময় অপেক্ষা করা হয়নি।

ইমরানের বিচার ও কারাগারে তার অবস্থার বিষয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোরও উদ্বেগ রয়েছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এবং ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব হিউম্যান রাইটস তার বিচারপ্রক্রিয়ার ন্যায্যতা ও কারাগারের পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

ইমরানের ছেলেরা দাবি করেছেন, তাকে কারাগারে একটি ‘ডেথ সেলে’ রাখা হয়েছে এবং সেখানে তিনি মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। তবে পাকিস্তান সরকার এসব অভিযোগ বারবার অস্বীকার করেছে।

এবার সাবেক অধিনায়কদের ২১ জনের সম্মিলিত আবেদন মূলত ইমরানের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, পারিবারিক সাক্ষাৎ এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করার ওপরই কেন্দ্রীভূত।

rumaakter144e@gmail.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *