শেষের পথে ডাকসুর মেয়াদ, পরের ভোট কবে?

শেষের পথে ডাকসুর মেয়াদ, পরের ভোট কবে?

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদের বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষের দিকে। তবে নতুন নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি এখনো দৃশ্যমান না হওয়ায় নির্ধারিত সময়ে ভোট হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর সর্বশেষ ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনের আগে ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’ প্রতিবছর নির্ধারিত সময়ে ডাকসু নির্বাচন আয়োজনকে তাদের ৩৬ দফা প্রতিশ্রুতির অন্যতম প্রধান বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেছিল।

তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি একাডেমিক ক্যালেন্ডারে ডাকসু নির্বাচন অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এমনকি এটি ক্যালেন্ডারে যুক্ত করার কোনো সিদ্ধান্তও এখন পর্যন্ত হয়নি।

ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের গাফিলতিকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, তারা যথাযথ প্রক্রিয়ায় আবেদন করেছেন এবং আগামী ১২ সেপ্টেম্বর সমাপনী বক্তব্য দেওয়ার দিনই পরবর্তী নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন।

তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্বাচন আয়োজনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী।

তিনি বলেন, ইতোমধ্যে হলগুলোর প্রাধ্যক্ষদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। বর্তমান ডাকসু কমিটির সঙ্গেও বৈঠক করা হয়েছে এবং হলগুলোর সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রতিবেদন চাওয়া হয়েছে। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে নির্বাচনের সময় ঘোষণা করা হবে।

তফসিল কবে ঘোষণা হতে পারে—এমন প্রশ্নের জবাবে উপ-উপাচার্য বলেন, ‘এটা প্রক্রিয়াধীন।’

গত বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে ডাকসু নির্বাচন নিয়ে বৈঠক করেছে বর্তমান সংসদ। ওই বৈঠকেও পরবর্তী নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান জিএস এস এম ফরহাদ।

১৪ সেপ্টেম্বরের পর কী হবে?

ডাকসুর গঠনতন্ত্রের ১৭ ধারা অনুযায়ী, নির্বাচিত পদাধিকারীরা ৩৬৫ দিন দায়িত্ব পালন করবেন। নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন না হলে তারা আরও ৯০ দিন অথবা নতুন নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্বে থাকতে পারবেন।

অর্থাৎ ১৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নির্বাচন না হলে বর্তমান কমিটির মেয়াদ সর্বোচ্চ আরও তিন মাস বাড়তে পারে।

তবে অতিরিক্ত সময় দায়িত্বে থাকতে আগ্রহী নন বলে জানিয়েছেন ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ। তার ভাষায়, সময় শেষ হলে তারা দায়িত্ব ছেড়ে দিতে চান এবং যথাসময়ে নির্বাচন চান।

নির্বাচনী বাজেটও নেই

২০২৫ সালের ডাকসু নির্বাচনে ব্যয় হয়েছিল প্রায় ১ কোটি ৭ লাখ টাকা। কিন্তু চলতি অর্থবছরের বাজেটে নতুন ডাকসু নির্বাচনের জন্য কোনো অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানিয়েছেন, নির্বাচন হলে ঘাটতি বাজেট থেকে এর ব্যয় মেটানো হবে।

সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি

এদিকে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নতুন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার দাবি জানিয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন গত নির্বাচনের বিভিন্ন অভিযোগ ও ত্রুটি তদন্ত করে সেগুলোর সমাধানের পর নতুন নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানিয়েছেন। তার অভিযোগ, গত ডাকসু নির্বাচন বিতর্কিত ছিল।

অন্যদিকে বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রীর কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক জাবির আহমেদ জুবেল ডাকসু নির্বাচনকে একাডেমিক ক্যালেন্ডারে অন্তর্ভুক্ত করে প্রতিবছর নির্বাচন আয়োজনের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

২০২৫ সালের নির্বাচনের আগে ডাকসু নির্বাচন হয়েছিল ২০১৯ সালে। তারও আগে দীর্ঘ ২৯ বছর নির্বাচন হয়নি। সর্বশেষ নির্বাচনে ভিপি ও জিএসসহ ১২টি সম্পাদকীয় পদের মধ্যে নয়টিতে জয় পায় ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল। ভিপি পদে সাদিক কায়েম, জিএস পদে এস এম ফরহাদ এবং এজিএস পদে মহিউদ্দীন খান নির্বাচিত হন।

এখন মূল প্রশ্ন—নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন আয়োজন করা হবে, নাকি আবারও দীর্ঘসূত্রতার মুখে পড়বে ডাকসু নির্বাচন? বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বক্তব্য, প্রক্রিয়া চলছে; তবে তফসিল ঘোষণার নির্দিষ্ট সময় এখনো জানানো হয়নি।

rumaakter144e@gmail.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *