অফিসে অনুপস্থিত ও হাজিরা খাতায় আগাম স্বাক্ষর, ২০ জনকে শোকজ

অফিসে অনুপস্থিত ও হাজিরা খাতায় আগাম স্বাক্ষর, ২০ জনকে শোকজ

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা ভূমি অফিসে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনুপস্থিতি এবং হাজিরা খাতায় আগাম স্বাক্ষরের ঘটনায় দুই সহকারী কমিশনার (ভূমি)সহ ২০ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে জেলা প্রশাসন।

সোমবার (৩১ আগস্ট) সকালে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন সদর উপজেলা ভূমি অফিস পরিদর্শনে যান। এ সময় অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কর্মস্থলে পাওয়া যায়নি। তাদের কয়েকজন ৩১ আগস্টের হাজিরা খাতায় আগের দিনই স্বাক্ষর করে রেখেছিলেন বলে জেলা প্রশাসনের নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

সোমবার সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন জেলা প্রশাসনের রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর (অতিরিক্ত দায়িত্ব) জাকিয়া সরওয়ার লিমা। তিনি জানান, সদর উপজেলা ভূমি অফিসের ১০ জন, সিদ্ধিরগঞ্জ রাজস্ব সার্কেলের ৬ জন এবং ফতুল্লা রাজস্ব সার্কেলের দুজনকে শোকজ করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের নোটিশে বলা হয়, যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা কিংবা বিলম্বে অফিসে উপস্থিত হওয়া সরকারি কর্মচারী (নিয়মিত উপস্থিতি) বিধিমালা, ২০১৯-এর লঙ্ঘন। একই সঙ্গে হাজিরা খাতায় আগাম স্বাক্ষর করাকে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর আওতাধীন অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

শোকজ পাওয়া ব্যক্তিদের তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে অনুপস্থিতির কারণ ব্যাখ্যা করতে বলা হয়েছে।

এদিকে সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাদিয়া আক্তার এবং ফতুল্লা রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) অংমাচিং মারমাকেও পৃথকভাবে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তাদের নোটিশে স্বাক্ষর করেছেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রিনাত ফৌজিয়া।

জেলা প্রশাসক রায়হান কবির বলেন, পরিদর্শনের সময় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনুপস্থিতি এবং হাজিরা খাতায় আগাম স্বাক্ষরের বিষয়টি সামনে আসায় সংশ্লিষ্টদের শোকজ করা হয়েছে। লিখিত জবাব পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, ‘সবাই হয়তো দোষ করেননি। কেউ কেউ আগাম স্বাক্ষর করেছেন। তদন্তের পর বিষয়টি পরিষ্কারভাবে বলা যাবে।’

জানা গেছে, সোমবার সকাল ৯টার কয়েক মিনিট আগে নারায়ণগঞ্জ নগরীর খানপুর এলাকায় সদর উপজেলা ভূমি অফিসে আকস্মিক পরিদর্শনে যান প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। একই চত্বরে সদর উপজেলা সহকারী কমিশনারের কার্যালয়ের পাশাপাশি ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ রাজস্ব সার্কেলের কার্যালয় রয়েছে।

কার্যালয়ে ঢুকেই প্রতিমন্ত্রী হাজিরা খাতা দেখতে চান। সকাল ৯টা পেরিয়ে গেলেও বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী অফিসে উপস্থিত না থাকায় তিনি বিষয়টি নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দেন।

প্রায় ২০ মিনিট পর খবর পেয়ে সেখানে উপস্থিত হন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রিনাত ফৌজিয়া। এর কিছুক্ষণ পর ফতুল্লা রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) অংমাচিং মারমা কার্যালয়ে আসেন।

শোকজ পাওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন সদর উপজেলা ভূমি অফিসের কানুনগো আব্দুস সাত্তার, সার্ভেয়ার মো. আসাদুজ্জামান, নাজির কাম ক্যাশিয়ার মাসুম মিয়া, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মাহফুজা আক্তার, সার্টিফিকেট সহকারী সাদিয়া আক্তার, চেইনম্যান মীর মোজাম্মেল হক, অফিস সহায়ক আব্দুস সালাম (রূপম), ইউনূস আলী, মোক্তার হোসেন ও গাড়িচালক নাদিম হায়দার।

এ ছাড়া সিদ্ধিরগঞ্জ রাজস্ব সার্কেলের কানুনগো ফারুক আলম, সার্ভেয়ার জামাল উদ্দিন, মিউটেশন কাম সার্টিফিকেট সহকারী জান্নাত হোসেন, নাজির কাজী তানজিরুল হক, অফিস সহায়ক মোকলেছ শেখ ও চেইনম্যান রফিকুল ইসলাম এবং ফতুল্লা রাজস্ব সার্কেলের সার্ভেয়ার মিল্টন রায় ও অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক সাহাদাত রয়েছেন শোকজ পাওয়া ব্যক্তিদের তালিকায়।

rumaakter144e@gmail.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *