রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ও বঙ্গোপসাগরে জ্বালানি অনুসন্ধানে চীনা বিনিয়োগ চান স্পিকার
নিজস্ব প্রতিবেদক
মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের টেকসই প্রত্যাবাসনে চীনের সহযোগিতা চেয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে ভোলাসহ বাংলাদেশের উপকূলীয় সম্ভাবনাময় এলাকায় তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানে চীনা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনে স্পিকারের কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে এসব কথা বলেন স্পিকার। বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্য, প্রযুক্তি, আঞ্চলিক যোগাযোগ, বিনিয়োগ ও উন্নয়ন সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা হয়।
স্পিকার বলেন, চীন বাংলাদেশের অন্যতম ঘনিষ্ঠ উন্নয়ন সহযোগী। অবকাঠামো ও সামাজিক উন্নয়নের বিভিন্ন ক্ষেত্রে চীনের সহযোগিতার কথা উল্লেখ করে তিনি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন।
বৈঠকে বাংলাদেশের আশ্রয়ে থাকা বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গার প্রসঙ্গও উঠে আসে। স্পিকার বলেন, রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হচ্ছে। এই সংকটের স্থায়ী সমাধানে চীনের কার্যকর সহযোগিতা প্রয়োজন।
চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, বাংলাদেশকে চীন গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করে। দেশটিতে বড় প্রকল্পের পাশাপাশি মাঝারি ও ক্ষুদ্র বিনিয়োগও রয়েছে। বাংলাদেশকে উৎপাদনভিত্তিক একটি শক্তিশালী কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে চীনের আগ্রহ রয়েছে বলেও জানান তিনি।
বৈঠকে বাংলাদেশ-মিয়ানমার-চীন করিডোর গঠন, দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগ বৃদ্ধি, রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান এবং যৌথ জ্বালানি উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হয়।
স্পিকার বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলীয় সম্ভাবনাময় এলাকায় তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানে চীনা কোম্পানিগুলোকে বিনিয়োগের আহ্বান জানান। এ ছাড়া ‘ওয়ান চায়না পলিসি’র প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন অব্যাহত রাখার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
বৈঠকে ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) নির্বাহী কাউন্সিলে বাংলাদেশের প্রার্থিতার বিষয়ে চীনের সমর্থন নিয়েও আলোচনা হয়।
সাক্ষাৎকালে চীনা দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
