দুই দফা প্রাণঘাতী ইনজেকশনেও বেঁচে গেলেন, আশঙ্কাজনক ক্রিস্টা পাইক

দুই দফা প্রাণঘাতী ইনজেকশনেও বেঁচে গেলেন, আশঙ্কাজনক ক্রিস্টা পাইক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় দুই দফা প্রাণঘাতী ইনজেকশন দেওয়ার পরও বেঁচে গেছেন ক্রিস্টা পাইক। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। এ ঘটনার পর চলতি বছরের বাকি সব মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত করেছেন টেনেসির গভর্নর বিল লি।

স্থানীয় সময় বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) পাইককে পেন্টোবারবিটালের দুটি প্রাণঘাতী ডোজ দেওয়া হয়। কিন্তু এরপরও তিনি জীবিত ছিলেন। পরে তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) পাইকের আইনজীবী র‍্যান্ডি স্পিভি সাংবাদিকদের বলেন, তার বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে খুব বেশি তথ্য তাদের কাছে নেই। সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা সম্পর্কেও তারা কিছু বলতে পারছেন না। তবে তিনি এখনো জীবিত রয়েছেন।

আইনজীবীরা জানিয়েছেন, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে পাইকের শরীরে আইভি লাইন স্থাপনের চেষ্টা করা হয়। এ সময় তার বাম হাতে অন্তত সাতটি সূঁচ ব্যবহার করা হয়েছিল বলে দাবি করেন স্পিভি।

তার ভাষ্য, দ্বিতীয় দফা প্রাণঘাতী ওষুধ দেওয়ার পরও পাইক শ্বাস নিচ্ছেন—এটি স্পষ্ট হওয়ার পর পর্যবেক্ষকদের একটি পর্দার আড়ালে সরিয়ে নেওয়া হয়। এরপর সেখানে কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে তারা কিছু জানতে পারেননি।

পাইককে ১৯৯৬ সালে ১৯ বছর বয়সী কলিন স্লেমারকে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। ওই সময় পাইকের বয়স ছিল ১৮ বছর। তৎকালীন প্রেমিক ট্যাডারিল শিপের সঙ্গে মিলে স্লেমারকে মারধর ও নির্যাতনের পর হত্যা করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত পাইকের আইনজীবীরা আইনি লড়াই চালিয়ে যান। শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট প্রাণঘাতী ইনজেকশনের মাধ্যমে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের অনুমতি দেন।

এদিকে পাইকের আইনজীবীরা তার মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে দেওয়ার আবেদন করেছেন। তারা দাবি করেছেন, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়ায় পাইক অপ্রয়োজনীয় যন্ত্রণার শিকার হয়েছেন।

ঘটনার পর টেনেসির গভর্নর বিল লি স্বাধীন তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, এ ঘটনায় অনেক প্রশ্ন তৈরি হয়েছে এবং রাজ্যের জনগণের এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার অধিকার রয়েছে। তবে তদন্তটি কে পরিচালনা করবে, তা এখনো স্পষ্ট করা হয়নি।

টেনেসি ডিপার্টমেন্ট অব কারেকশন অবশ্য তাদের প্রক্রিয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের অনুমোদিত এবং অঙ্গরাজ্যের আইন অনুযায়ী নির্ধারিত প্রোটোকলের প্রতিটি ধাপ অনুসরণ করা হয়েছে।

২০২৬ সালে এটি টেনেসিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দ্বিতীয় ব্যর্থ প্রচেষ্টা। এর আগে মে মাসে টনি কারাথার্সের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত করা হয়েছিল। কর্মকর্তারা তার শরীরে প্রাণঘাতী ওষুধ প্রয়োগের জন্য উপযুক্ত শিরা খুঁজে পেতে ব্যর্থ হন।

সূত্র: বিবিসি

rumaakter144e@gmail.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *