হুথি হামলা ঠেকাতে সৌদি আরবে সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন করছে ফ্রান্স

হুথি হামলা ঠেকাতে সৌদি আরবে সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন করছে ফ্রান্স

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠীর ধারাবাহিক হামলা মোকাবিলায় সৌদি আরবের পাশে দাঁড়িয়েছে ফ্রান্স। দেশটির জ্বালানি অবকাঠামো ও গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহনব্যবস্থার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৌদি আরবে সামরিক সরঞ্জাম ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা মোতায়েন শুরু করেছে প্যারিস।

বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পাসকাল কনফাভরু। তিনি বলেন, সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে হুথিদের হামলা শুধু দেশটির নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য হুমকি নয়, বরং এর প্রভাব ফ্রান্সের ওপরও পড়তে পারে। জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হলে বড় ধরনের সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গত ২৪ সেপ্টেম্বর প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামো, বিশেষ করে ইয়ানবু পর্যন্ত বিস্তৃত পূর্ব-পশ্চিম তেল করিডোর সুরক্ষায় সহযোগিতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। সেই প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবেই সৌদি আরবে সামরিক সরঞ্জাম ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা মোতায়েন করা হচ্ছে।

এর আগে গত মাসে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ জানিয়েছিলেন, লোহিত সাগরের তীরবর্তী সৌদি বন্দরনগরী ইয়ানবুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেখানে সেনা ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠানো হবে। ইরান সংঘাতের প্রভাব সীমিত রাখাই এ উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য বলে জানিয়েছিলেন তিনি।

এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে ম্যাক্রোঁ বলেন, গুরুত্বপূর্ণ এলাকাটি সুরক্ষিত রাখতে সৈন্য, রাডার ও প্রতিরক্ষাব্যবস্থা পাঠানো হচ্ছে। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, ফ্রান্স কোনো সংঘাতে জড়িয়ে পড়ছে না। সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ইয়ানবু

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত শুরুর পর সৌদি আরবের লোহিত সাগর উপকূলের ইয়ানবু বন্দর ইউরোপে ডিজেল, অপরিশোধিত তেল ও অন্যান্য পরিশোধিত জ্বালানি পণ্য সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। এই বন্দর ব্যবহার করে হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে জ্বালানি রপ্তানি করতে পারছে সৌদি আরব।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বরে ইরাকে অবস্থিত ইরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠীর ড্রোন হামলায় পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর ফলে পাইপলাইনটি বন্ধ হয়ে যায়।

এ ছাড়া গত সপ্তাহে হুথিদের হামলায় ইয়ানবুর ‘ইয়াসরেফ’ তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে সেটির কার্যক্রম বন্ধ করতে বাধ্য হয় সৌদি আরব। ধারাবাহিক এসব হামলা বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বাড়িয়েছে এবং ডিজেল সরবরাহের সংকট আরও তীব্র করেছে।

মোতায়েন হতে পারে রাফাল যুদ্ধবিমান

গত সেপ্টেম্বরে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁকে ইয়ানবুর নিরাপত্তায় রাফাল যুদ্ধবিমান মোতায়েনের সম্ভাবনা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, কিছু যুদ্ধবিমান ইতোমধ্যে ওই অঞ্চলে রয়েছে।

পারস্য উপসাগর উপকূলের সৌদি তেল উৎপাদন কেন্দ্র থেকে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দর পর্যন্ত প্রায় ৭৫০ মাইল বিস্তৃত পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনটি সৌদি আরবের জ্বালানি রপ্তানির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই পাইপলাইনের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি ব্যবহার না করেই বিশ্ববাজারে সৌদি অপরিশোধিত তেল পৌঁছানো সম্ভব।

আশির দশকের শুরুর দিকে ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় পারস্য উপসাগরে জাহাজ চলাচল ঝুঁকির মুখে পড়লে বিকল্প রপ্তানি পথ হিসেবে পাইপলাইনটি নির্মাণ করা হয়েছিল।

সূত্র: এএফপি, ফার্স্টপোস্ট

rumaakter144e@gmail.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *