ইতিহাস গড়লেন মিরাজ, টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে অনন্য ডাবল

ইতিহাস গড়লেন মিরাজ, টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে অনন্য ডাবল

বাংলাদেশের ক্রিকেটে নতুন ইতিহাস গড়লেন মেহেদী হাসান মিরাজ। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে (WTC) ১০০ উইকেট ও ১ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করা প্রথম বাংলাদেশি ক্রিকেটার হয়েছেন এই অলরাউন্ডার।

ডারউইন টেস্টের চতুর্থ দিনে অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসে প্যাট কামিন্সকে আউট করার মধ্য দিয়ে মিরাজের উইকেটসংখ্যা ১০০-তে পৌঁছে যায়। তার অফ-স্পিনে কামিন্সের ব্যাটের কানা লেগে বল শর্ট ফিল্ডার সাদমান ইসলামের হাতে জমা পড়লে পূর্ণ হয় এই মাইলফলক।

এর আগে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে ১০০ উইকেট ও ১ হাজার রানের ডাবল অর্জন করেছিলেন ভারতের রবিচন্দ্রন অশ্বিন ও রবীন্দ্র জাদেজা, অস্ট্রেলিয়ার প্যাট কামিন্স এবং ইংল্যান্ডের ক্রিস ওকস। এবার তাদের সঙ্গে যোগ হলো মিরাজের নাম।

বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে মিরাজ এখন পর্যন্ত ৩২ ম্যাচে ১০০ উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি ব্যাট হাতে করেছেন ১ হাজার ৪৩৬ রান। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে তিনি এই অনন্য ডাবল অর্জন করলেন।

চলতি ম্যাচের তৃতীয় দিনে স্টিভেন স্মিথকে ফিরিয়ে বল হাতে দারুণ শুরু করেছিলেন মিরাজ। চতুর্থ দিনে তিনি তুলে নেন অ্যালেক্স ক্যারি, ব্যু ওয়েবস্টার ও প্যাট কামিন্সের গুরুত্বপূর্ণ উইকেটও। সব মিলিয়ে অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসে এখন পর্যন্ত তার শিকার চার উইকেট।

তবে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে ১০০ উইকেট নেওয়া প্রথম বাংলাদেশি বোলার তাইজুল ইসলাম। মিরাজ এই তালিকায় দেশের দ্বিতীয় বোলার হিসেবে জায়গা করে নিয়েছেন।

আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্যারিয়ারে মিরাজের এটি ৫৯তম ম্যাচ। এখন পর্যন্ত ৩ দশমিক ০৮ ইকোনমিতে তার শিকার ২২৩ উইকেট। ইনিংসে পাঁচ উইকেট নিয়েছেন ১৪ বার এবং ম্যাচে ১০ উইকেট পেয়েছেন তিনবার। ব্যাট হাতে ২৪ দশমিক ১৭ গড়ে তার সংগ্রহ ২ হাজার ২৯৬ রান।

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ইতিহাস, ৯ উইকেটে জিতল বাংলাদেশ

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট জয়ের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটাল বাংলাদেশ। ডারউইন টেস্টে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। চার দিনেই শেষ হওয়া ম্যাচে ব্যাটিং ও বোলিং—দুই বিভাগেই দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েছে বাংলাদেশ।

এই জয়ে দুই ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ২৩ বছর পর খেলতে গিয়ে এমন দাপুটে জয় বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে নতুন অধ্যায় যোগ করেছে।

ম্যাচের প্রথম দিন থেকেই বাংলাদেশের পেসারদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং। দুইশ রানের আগেই গুটিয়ে যায় স্বাগতিকদের প্রথম ইনিংস। এরপর ব্যাট হাতেও দারুণ জবাব দেয় বাংলাদেশ। তানজিদ হাসান তামিম তুলে নেন দুর্দান্ত সেঞ্চুরি। নাজমুল হোসেন শান্ত ও মেহেদী হাসান মিরাজের অর্ধশতকে ভর করে বড় সংগ্রহ গড়ে বাংলাদেশ।

প্রথম ইনিংসে ২২৮ রানের লিড নেয় বাংলাদেশ, যা বিদেশের মাটিতে প্রথম ইনিংসে তাদের সর্বোচ্চ লিড। এতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তভাবে চলে আসে বাংলাদেশের হাতে।

দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়া কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও বাংলাদেশের বোলিংয়ের সামনে বেশিক্ষণ টিকতে পারেনি। ক্যামেরন গ্রিন সেঞ্চুরি করে দলকে লিড এনে দিলেও মেহেদী হাসান মিরাজের ঘূর্ণিতে বড় লক্ষ্য দিতে ব্যর্থ হয় স্বাগতিকরা। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের সামনে জয়ের জন্য লক্ষ্য দাঁড়ায় মাত্র ৫৭ রান।

জবাব দিতে নেমে শুরুতেই তানজিদ হাসান তামিম ডাক মেরে ফিরলেও এরপর আর কোনো বিপদ হতে দেননি সাদমান ইসলাম ও মুমিনুল হক। ৫৩ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে তারা দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন। ১৫তম ওভারের দ্বিতীয় বলে বেউ ওয়েবস্টারকে চার মেরে জয় নিশ্চিত করেন মুমিনুল। তিনি ৩০ রানে এবং সাদমান ২৫ রানে অপরাজিত থাকেন।

এর আগে দুই ইনিংস মিলিয়ে ৯ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের জয়ের অন্যতম নায়ক হন হাসান মাহমুদ। দুর্দান্ত বোলিংয়ের স্বীকৃতি হিসেবে ম্যাচসেরার পুরস্কারও উঠেছে তার হাতে।

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের এই ঐতিহাসিক জয় শুধু সিরিজে এগিয়ে যাওয়াই নয়, টেস্ট ক্রিকেটে দলের আত্মবিশ্বাস ও সামর্থ্যেরও বড় প্রমাণ হয়ে থাকল।

rumaakter144e@gmail.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *