ঈদের আগে বেতন-বোনাস না পেয়ে চরম সংকটে চ্যানেল নাইনের কর্মীরা
পবিত্র ঈদুল আজহা ঘনিয়ে এলেও তীব্র আর্থিক অনিশ্চয়তা ও হতাশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল Channel 9-এর সংবাদকর্মী ও সাধারণ কর্মচারীরা। অভিযোগ উঠেছে, দীর্ঘদিন ধরে বেতন অনিয়মিতভাবে পরিশোধের পাশাপাশি এবারও চলতি এপ্রিল মাসের বেতন এবং ঈদ বোনাস পরিশোধ করেনি কর্তৃপক্ষ। ফলে পরিবার-পরিজন নিয়ে ঈদ উদযাপন তো দূরের কথা, নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটাতেও হিমশিম খাচ্ছেন কর্মীরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভুক্তভোগী কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটিতে বেতন বিলম্বিত হওয়া এখন প্রায় নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। ২০২৩ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে কর্মীদের বেতন আটকে রাখা হয় এবং ধাপে ধাপে বকেয়া বাড়তে থাকে। বর্তমানে কোনো কোনো কর্মীর সাত থেকে আট মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। দীর্ঘ সময় ধরে পাওনা অর্থ না পাওয়ায় অনেক কর্মী ঋণ, ধার-দেনা এবং ব্যক্তিগত সংকটের মধ্যে পড়েছেন।
কর্মীদের অভিযোগ, ঈদের মতো বড় ধর্মীয় উৎসব সামনে থাকলেও কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত বেতন ও বোনাস পরিশোধের বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট আশ্বাস দেওয়া হয়নি। এপ্রিল মাস শেষ হয়ে মে মাসের শেষ সপ্তাহ চললেও এখনো এপ্রিলের বেতন হাতে পাননি তারা। একই সঙ্গে আটকে আছে ঈদ উৎসব ভাতাও। এতে কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সংবাদকর্মী বলেন, “একদিকে কয়েক মাসের বেতন বকেয়া, অন্যদিকে সামনে ঈদ। পরিবারের সদস্যদের মুখের দিকে তাকাতে পারছি না। বাজার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে গেছে, সেখানে ঈদের কেনাকাটা করা আমাদের জন্য এখন বিলাসিতা।”
নাম না প্রকাশ করার শর্তে আরেক কর্মচারী জানান, “প্রতিবারই বলা হয় খুব দ্রুত বেতন দেওয়া হবে। কিন্তু বাস্তবে মাসের পর মাস কেটে গেলেও পাওনা মেলে না। অনেকেই বাড়িভাড়া, সন্তানদের পড়াশোনা এবং চিকিৎসা খরচ চালাতে চরম বিপাকে পড়েছেন।”
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের গণমাধ্যম খাতে আর্থিক সংকট থাকলেও কর্মীদের ন্যায্য বেতন-ভাতা পরিশোধ করা মালিকপক্ষের নৈতিক ও আইনগত দায়িত্ব। বিশেষ করে উৎসবের আগে সাংবাদিক ও কর্মচারীদের বেতন-বোনাস আটকে রাখা মানবিক দিক থেকেও অত্যন্ত দুঃখজনক।
এদিকে ঈদ সামনে রেখে দ্রুত বকেয়া বেতন ও উৎসব ভাতা পরিশোধের দাবি জানিয়েছেন চ্যানেল নাইনের কর্মীরা। একই সঙ্গে গণমাধ্যমকর্মীদের অধিকার রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সাংবাদিক সংগঠনগুলোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
