গণভোট ও গুম অধ্যাদেশ বাতিলের প্রস্তাবে ডাকসুর প্রতিবাদ

গণভোট ও গুম অধ্যাদেশ বাতিলের প্রস্তাবে ডাকসুর প্রতিবাদ

বর্তমান সরকার গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ,পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ, গণভোট অধ্যাদেশ, দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশসহ গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশসমূহ বাতিলের প্রস্তাবে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)।

জাতীয় সংসদ কর্তৃক গঠিত বিশেষ কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত সরকারি দলের সদস্যরা এই সুপারিশ করেছেন।

ডাকসু দাবি করে, জুলাই বিপ্লবের প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের জন্যই এসব গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত গণভোটে “হ্যাঁ” ভোটের সুস্পষ্ট বিজয়ের মাধ্যমে জনগণও সংস্কারের পক্ষে তাদের অবস্থান পরিষ্কারভাবে জানিয়েছে। ডাকসু বিশ্বাস করে, ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আসা এই অধ্যাদেশগুলো বাতিলের সুপারিশ জনগণের রায়ের প্রতি সরাসরি অবজ্ঞা প্রদর্শন মাত্র।

বিবৃতিতে বলা হয়, আমরা দেখেছি, বিগত ফ্যাসিবাদী আমলে দেশের অসংখ্য সাধারণ মানুষের মতো রাজনৈতিক দলের বহু নেতা-কর্মীও নির্যাতন, হয়রানি, গুম ও ক্রসফায়ারের শিকার হয়েছেন। স্বাধীন মানবাধিকার কমিশনের অনুপস্থিতি এধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো জনসমক্ষে আসতে দেয়নি এবং ফলে এর বিচারও হয়নি।

যে স্বাধীন মানবাধিকার কমিশনের অনুপস্থিতির ভুক্তভোগী অতীতে খোদ বর্তমান সরকারই ছিলেন, যে গুমের সংস্কৃতির ভুক্তভোগী বর্তমান সংসদের প্রধান সব দলই ছিলেন, আজ ক্ষমতায় আসার পর সেই কাঠামোগত নিপীড়নের পথ বন্ধ করার ক্ষেত্রে সরকার বাঁধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে কোন স্বার্থে— জনমনে আজ সেই প্রশ্নের উদ্রেক ঘটেছে।

তবে কি সরকার গুম, নির্যাতন ও ক্রসফায়ারসহ ফ্যাসিবাদী সংস্কৃতিকে পুনরায় রাষ্ট্রীয় কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত করে দেশকে আরেকটি অন্ধকার যুগের দিকে ঠেলে দেওয়ার ‘প্ল্যান’ করছে?

আমরা মনে করি, এটি এদেশের মজলুম জনসাধারণ, গুম-খুনের শিকার ব্যক্তিবর্গ এবং ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে জীবন ও রক্ত দেওয়া শহীদ-গাজীদের সাথে স্পষ্ট বিশ্বাসঘাতকতা ও জাতির সাথে একধরনের প্রতারণা।

আমরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানাতে চাই, জনরায় ও জনস্বার্থকে প্রাধান্য দিন; দ্বিচারিতা পরিহার করুন, এবং রাষ্ট্র সংস্কারের জনআকাঙ্খার পথে আসুন। অন্যথায় জনসাধারণের ম্যান্ডেটকে উপেক্ষা করে যদি ফ্যাসিবাদী কাঠামো পুনর্বহালের দুঃসাহস দেখানো হয়, তবে তার পরিণতির দায়ও আপনাদের নিজেদের উপরই বর্তাবে।

এদেশের ইতিহাস স্বাক্ষী, জনগণের রায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে কোনো শাসকই বেশিদিন স্বৈরশাসক হয়ে টিকে থাকতে পারেনি।

ডাকসু আরও জানায়, ফ্যাসিবাদবিরোধী দীর্ঘ আন্দোলন এবং জুলাই বিপ্লবের শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জানিয়ে, দেশের স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার স্বার্থে আসুন— সত্যিকার জনপ্রতিনিধির পরিচয় দিন। দেশের ঊনসত্তর শতাংশ মানুষের রায়কে প্রত্যাখান করার মনোবাসনা থেকে বেরিয়ে এসে জনআকাঙ্খা বাস্তবায়নে রাষ্ট্র সংস্কারের অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করুন।

BD Short News 24

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *