তৃণমূলের জোড়াফুল প্রতীক স্থগিত, উপনির্বাচনে প্রতীকহীন মমতা-ঋতব্রত শিবির

তৃণমূলের জোড়াফুল প্রতীক স্থগিত, উপনির্বাচনে প্রতীকহীন মমতা-ঋতব্রত শিবির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে তৃণমূল কংগ্রেসকে ঘিরে। দলটির বহুল পরিচিত ‘জোড়াফুল’ প্রতীক ব্যবহারে স্থগিতাদেশ দিয়েছে ভারতের নির্বাচন কমিশন। ফলে আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা আসনের উপনির্বাচনে তৃণমূলের মমতাপন্থী ও ঋতব্রতপন্থী—কোনো শিবিরই জোড়াফুল প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না।

নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আপাতত কোনো পক্ষকেই ‘আসল তৃণমূল কংগ্রেস’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে না। একই সঙ্গে ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ নামটিও কোনো পক্ষ ব্যবহার করতে পারবে না। দুই পক্ষকে আলাদা নাম বেছে নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে হবে। চাইলে নতুন নামের সঙ্গে ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’-এর সঙ্গে সম্পর্কের উল্লেখ রাখা যাবে।

উপনির্বাচনের আগে জোড়াফুল প্রতীক দাবি করে কমিশনের কাছে আবেদন করেছিল তৃণমূলের বিদ্রোহী নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুসারীরা। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই বৃহস্পতিবার রাতে প্রতীক ব্যবহারে স্থগিতাদেশের কথা জানায় কমিশন।

কমিশন জানিয়েছে, দলের প্রকৃত নেতৃত্ব কার হাতে, কোন পক্ষকে প্রকৃত তৃণমূল কংগ্রেস হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে এবং দলের তহবিলের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে—এসব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত প্রতীক স্থগিত থাকবে।

আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। দুই পক্ষই এরই মধ্যে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। তবে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের কারণে প্রার্থীরা কোন প্রতীকে নির্বাচন করবেন, তা এখনো নির্ধারিত হয়নি। দুই শিবিরকেই কমিশনের সংরক্ষিত প্রতীকের তালিকা থেকে পৃথক প্রতীক বেছে নিতে হবে।

যেভাবে শুরু হয় বিভক্তি

গত ৪ মে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর তৃণমূল কংগ্রেসে অভ্যন্তরীণ বিরোধ প্রকাশ্যে আসে। ওই নির্বাচনে ২৯৪ আসনের মধ্যে তৃণমূলের ৮০ জন প্রার্থী জয়ী হন। ফল প্রকাশের পর দলের অন্যতম নেতা ও বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। নির্বাচিত ৮০ বিধায়কের মধ্যে ৫৮ জন তার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এরপর থেকে মমতাপন্থী ও ঋতব্রতপন্থী দুই শিবিরের মধ্যে বিরোধ তীব্র হয়। উভয় পক্ষই নিজেদের প্রকৃত তৃণমূল হিসেবে দাবি করে আসছে।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, বৃহস্পতিবারের সিদ্ধান্তটি দলীয় প্রতীক বা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন দিক পর্যালোচনার পর পরবর্তী সময়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

জোড়াফুলের ইতিহাস

১৯৯৮ সালের ১ জানুয়ারি কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে এসে ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ প্রতিষ্ঠা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলের প্রতীক হিসেবে দুটি ফুল ও ঘাসের সমন্বয়ে তৈরি প্রতীকটি পরে নির্বাচন কমিশনের অনুমোদন পায়।

প্রতিষ্ঠার পর প্রায় তিন দশক ধরে ‘জোড়াফুল’ তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনৈতিক পরিচয়ের অন্যতম প্রধান প্রতীক হয়ে ওঠে। দলটির ‘মা-মাটি-মানুষ’ স্লোগান ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও প্রতীকটি ব্যাপকভাবে যুক্ত হয়ে যায়।

সূত্র: আনন্দবাজার

rumaakter144e@gmail.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *