প্রিমিয়ার লিগের দলবদল স্থবির, কোটি টাকা পারিশ্রমিক চাইছেন অর্ধডজন ক্রিকেটার

প্রিমিয়ার লিগের দলবদল স্থবির, কোটি টাকা পারিশ্রমিক চাইছেন অর্ধডজন ক্রিকেটার

বিশেষ সংবাদদাতা

বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা জাতীয় লিগ টি-টোয়েন্টি ও জাতীয় দলের ব্যস্ত সূচির প্রস্তুতিতে থাকলেও এরই মধ্যে সামনে আসছে ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগের (ডিপিএল) দলবদল। তবে এবার দলবদল ঘিরে এখনো ক্লাবগুলোর মধ্যে তেমন তোড়জোড় দেখা যাচ্ছে না।

আগামী ৪ অক্টোবর আট বিভাগীয় দলকে নিয়ে জাতীয় লিগ টি-টোয়েন্টি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর জাতীয় দলের আফগানিস্তান, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও দক্ষিণ আফ্রিকা সফর রয়েছে। এর মধ্যেই ক্রিকেটারদের নজর থাকছে ডিপিএলের নতুন মৌসুমের দল গঠনের দিকে।

সাধারণত মার্চ-এপ্রিল কিংবা কখনো মে মাসে ডিপিএল শুরু হলেও নতুন মৌসুম ফেব্রুয়ারিতে আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে ঢাকার ক্লাব ক্রিকেটের আয়োজক ও ব্যবস্থাপক সংগঠন সিসিডিএম। সে হিসাবে এবার দল গঠনের কার্যক্রমও আগেভাগে শুরু হওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে এখনো ক্লাবগুলোর মধ্যে তেমন সক্রিয়তা নেই।

ক্লাব সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দলবদল পিছিয়ে থাকার অন্যতম কারণ ফেব্রুয়ারিতে লিগ মাঠে গড়ানো নিয়ে কয়েকটি ক্লাবের সংশয়। সিসিডিএম আনুষ্ঠানিকভাবে ফেব্রুয়ারিতে লিগ আয়োজনের কথা জানালেও শেষ পর্যন্ত তা মার্চ-এপ্রিলে গড়াতে পারে বলে কিছু ক্লাব মনে করছে। তাই তারা আপাতত অপেক্ষার নীতি নিয়েছে।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিকের চাহিদা এবং ক্লাবগুলোর বাজেট সংকট। জানা গেছে, প্রায় পাঁচ-ছয়জন ক্রিকেটার এবার প্রায় এক কোটি টাকা করে পারিশ্রমিক দাবি করছেন। আরও অন্তত এক ডজন ক্রিকেটার ৬০ থেকে ৭৫ লাখ টাকা পারিশ্রমিক চাচ্ছেন।

ফলে দুই-তিনজন প্রতিষ্ঠিত তারকাকে দলে নিতে গেলেই দেড় কোটি টাকার কাছাকাছি খরচ হতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে এত বড় বাজেটের দল গঠন করা অনেক ক্লাবের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।

গত মৌসুমে মোহামেডান, আবাহনী, প্রাইম ব্যাংক ও লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ তুলনামূলক বড় বাজেটের দল গড়েছিল। মোহামেডানের দলে ছিলেন মুশফিকুর রহিম, তাওহীদ হৃদয়, এনামুল হক বিজয়, নাঈম শেখ, পারভেজ হোসেন ইমন, আফিফ হোসেন ধ্রুব, রিশাদ হোসেন, ইয়াসির আলী রাব্বি, তাসকিন আহমেদ, নাহিদ রানা, এবাদত হোসেন, সাইফউদ্দিন ও তাইজুল ইসলামের মতো জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা।

এত তারকা ক্রিকেটারকে দলে নিতে গিয়ে মোহামেডানকে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করতে হয়েছিল। তবে গত মৌসুমের পারিশ্রমিকের পুরোটা এখনো পরিশোধ করতে পারেনি ক্লাবটি বলে জানা গেছে। চলতি মাসে একাধিকবার সময় দেওয়ার পরও সব পাওনা পরিশোধ সম্ভব হয়নি।

এ অবস্থায় এবার মোহামেডানের দল কেমন হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। পাওনা পরিশোধ না হলে কয়েকজন ক্রিকেটার ক্লাবটি ছাড়তে পারেন। গত মৌসুমে ১৭ বছর পর ডিপিএলের শিরোপা জেতা মোহামেডান এবার আগের মতো বড় বাজেটের দল গড়তে পারবে কি না, সেটিও প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রানার্সআপ আবাহনীর অবস্থাও খুব একটা ভিন্ন নয়। তাদের কয়েকজন ক্রিকেটারও প্রায় এক কোটি টাকা পারিশ্রমিক দাবি করেছেন বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে আগের পাওনা পরিশোধের বিষয়টিও ক্লাবটির জন্য চাপ তৈরি করেছে।

তবে প্রাইম ব্যাংক ও সিটি ক্লাব তুলনামূলক বড় বাজেটের দল গঠনের প্রাথমিক প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ ও ব্রাদার্স ইউনিয়নের মতো ক্লাবগুলোর আর্থিক সক্ষমতা আগের তুলনায় সীমিত।

সব মিলিয়ে ক্রিকেটারদের উচ্চ পারিশ্রমিকের দাবি এবং ক্লাবগুলোর বাজেট সংকটের কারণে এবারের ডিপিএলের দলবদল অনেকটাই স্থবির হয়ে আছে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে ক্লাবগুলো নিজেদের মধ্যে সমন্বয় করে ক্রিকেটারদের গ্রেডেশনভিত্তিক পারিশ্রমিক নির্ধারণের চিন্তাভাবনা করছে বলে জানা গেছে। এ প্লাস, এ, বি, সি ও ডি—এভাবে ক্রিকেটারদের বিভিন্ন শ্রেণিতে ভাগ করে প্রতিটি গ্রেডের জন্য নির্দিষ্ট পারিশ্রমিক নির্ধারণ করা হতে পারে।

সেক্ষেত্রে বর্তমানে ৭০ লাখ থেকে এক কোটি টাকা দাবি করা ক্রিকেটারদের সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত পারিশ্রমিক দেওয়া হতে পারে। একইভাবে ৫০-৬০ লাখ টাকা দাবি করা ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক ৪০ লাখ এবং ৩০-৩৫ লাখ টাকা দাবি করা ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক ২০-২৫ লাখ টাকার মধ্যে নির্ধারণ করা হতে পারে।

rumaakter144e@gmail.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *