বইমেলার গতি বাড়েনি পঞ্চম দিনেও; প্রকাশকরা আশাবাদী।

বইমেলার গতি বাড়েনি পঞ্চম দিনেও; প্রকাশকরা আশাবাদী।

নিজস্ব প্রতিবেদক:

মেঘাচ্ছন্ন দিনে রাজধানীর বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত অমর একুশে বইমেলা–২০২৬-এর আজ সোমবার (২ মার্চ) ছিল ১৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ এবং মেলার পঞ্চম দিন। আজ মেলা চলে দুপুর ২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত।

আজ তথ্যকেন্দ্রে নতুন ৪০টি বই জমা পড়েছে বলে মেলা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের বাংলা একাডেমির একজন বিক্রয়কর্মী বলেন, সপ্তাহের দ্বিতীয় কর্মদিবসে দর্শনার্থী ও বিক্রি কিছুটা কম ছিল। গ্রীষ্মকালে তাপ ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাওয়ায় বিক্রি এবং দর্শনার্থী উভয়ই হ্রাস পাচ্ছে।
‘বেশিরভাগ শিশু এবং তাদের অভিভাবকরা আজ মাঠে আসেননি, তাই দিনের বেলায় বেশিরভাগ স্টলই দর্শনার্থী কম ছিল অথবা খালি ছিল, তবে ইফতারের পরে, কিছু দর্শনার্থী – বেশিরভাগই তরুণ – মেলায় এসেছিলেন,’ তিনি বলেন। দুপুরে, উচ্চ তাপমাত্রা এবং রমজানে রোজা রাখার কারণে, দর্শনার্থীরা উদ্যান প্রাঙ্গণ এড়িয়ে চলেন।

প্রকাশকদের মতে, এখন পর্যন্ত বিক্রি “ভালোও নয়, খারাপও নয়”। রমজানের কারণে দর্শনার্থীদের সময়সূচিতে পরিবর্তন এসেছে, ফলে দিনের পরিবর্তে সন্ধ্যা ও রাতের দিকে মেলা বেশি জমে উঠছে।
অনন্যা প্রকাশনীর মালিক মনিরুল হক বলেন, এ বছর বিক্রি প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। “এখন মানুষদের ইফতারের আগেই বাড়ি ফিরতে হয়। রাতে তারাবির নামাজ হয়। তাই স্বাভাবিকভাবেই, দর্শনার্থীরা মেলায় কম সময় ব্যয় করছেন,

বিকেল ৩টায় বইমেলার মূলমঞ্চে “সার্ধশত জন্মবর্ষ : শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়” শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। প্রবন্ধ উপস্থাপনা করেন হামীম কামরুল হক।
কামরুল হক বলেন, বাংলা সাহিত্যের এক কীর্তিস্তম্ভ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তাঁর উপন্যাসের মাধ্যমে নারীজীবনের মুক্তি ও সমাজকল্যাণের বিষয় তুলে ধরেছেন। দেশি–বিদেশি সাহিত্য, রাজনীতি, অর্থনীতি ও বিভিন্ন জ্ঞানশাখায় তাঁর গভীর অধ্যয়ন ছিল, যা তাঁর সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছে।
আলোচক হিসেবে পারভেজ হোসেন বলেন, বাংলা সাহিত্যে শরৎচন্দ্রের অবস্থান অত্যন্ত দৃঢ়। তাঁর রচনায় জীবনের মহত্ত্ব, মানবিক বেদনা এবং সমাজের নিপীড়িত মানুষের আর্তনাদ শক্তভাবে উঠে এসেছে। বিশেষ করে নারীর সামাজিক অবস্থান তিনি সাবলীলভাবে চিত্রায়িত করেছেন।

সভাপতির বক্তব্যে সফিকুন্নবী সামাদী বলেন, বাংলা কথাসাহিত্যে শরৎচন্দ্রের অবদান অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তাঁর সাহিত্য তৎকালীন ভারতবর্ষের রাজনীতি, অর্থনীতি ও সামাজিক বাস্তবতাকে গভীরভাবে তুলে ধরেছে এবং পরবর্তী প্রজন্মের বহু লেখক তাঁর দ্বারা প্রভাবিত হয়েছেন।
এদিন “লেখক বলছি” অনুষ্ঠানে নিজেদের বই নিয়ে আলোচনা করেন ফারসীম মান্নান মোহাম্মদী ও এজাজ ইউসুফী। পরে বিকেল ৪টায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে শিল্পীরা আবৃত্তি ও রবীন্দ্র সংগীত পরিবেশন করেন।

আগামীকাল মঙ্গলবার (৩ মার্চ) মেলা চলবে দুপুর ২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। বিকেল ৩টায় মূলমঞ্চে “জন্মশতবর্ষ : তাজউদ্দীন আহমদ” শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন মহিউদ্দিন আহমদ, আলোচনায় অংশ নেবেন সাজ্জাদ সিদ্দিকী এবং সভাপতিত্ব করবেন অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান। বিকেল ৪টায় থাকবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
মেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য–সচিব ড. মো. সেলিম রেজা সংশ্লিষ্ট সকলকে মেলায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

BD Short News 24

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *