বিতর্কের পর অবশেষে অব্যাহতি পেলেন প্রকৌশলী রেজাউল
অবশেষে বহুল আলোচিত ও বিতর্কিত নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রেজাউল ইসলামের ‘রুটিন দায়িত্ব’ বাতিল করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের পরিকল্পনা-৩ শাখার উপসচিব স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
মো. রেজাউল ইসলাম খুলনা ওয়াসার নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে, যার কয়েকটি বর্তমানে তদন্তাধীন। এসব অভিযোগ নিয়ে ইতোমধ্যে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়েছে।
তিনি বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের ব্যানারে আইবি নির্বাচনে অংশ নেন এবং সংগঠনটির জাতীয় ও স্থানীয় নেতাদের সম্পৃক্ততায় প্রকৌশলী সমাজে বিতর্কের সৃষ্টি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এর ফলে খুলনা আইবি কেন্দ্রের অনেক প্রকৌশলী মূলধারার কার্যক্রম থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।
‘খুলনা পানি সরবরাহ প্রকল্প (ফেজ-২)’-এর প্রকল্প পরিচালক পদ পাওয়ার লক্ষ্যে তিনি বিভিন্ন পর্যায়ে তদবির চালান বলেও অভিযোগ রয়েছে। ছাত্র সমন্বয়কসহ নানা মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ও খুলনা ওয়াসা কর্তৃপক্ষের ওপর চাপ প্রয়োগের কথাও উঠে আসে। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর পরিকল্পনা-৩ শাখা থেকে উপসচিব ইবাদাত হোসেন স্বাক্ষরিত এক চিঠির মাধ্যমে তাকে নিয়মবহির্ভূতভাবে প্রকল্প পরিচালকের রুটিন দায়িত্ব দেওয়া হয়, যা বিভিন্ন মহলে সমালোচনার জন্ম দেয়। অভিযোগ রয়েছে, খুলনা ওয়াসার দুইজন বোর্ড সদস্যও তার পক্ষে তদবির করেছিলেন।
রুটিন দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পাওয়ার পরও তিনি পুনরায় ওই পদে নিয়োগ পেতে সক্রিয় রয়েছেন বলে জানা গেছে। বিভিন্ন মাধ্যমে তদবির চালানোর পাশাপাশি বড় অঙ্কের সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে, সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশ্ন উঠেছে; বৃহৎ দাতা সংস্থার প্রকল্প পরিচালনার কোনো বাস্তব অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও তিনি কীভাবে এমন একটি বড় প্রকল্প পরিচালনার জন্য উপযুক্ত হতে পারেন। চাকরি জীবনে তিনি মূলত ওয়াসার জোনাল অফিসের দায়িত্বে ছিলেন, যা বৃহৎ প্রকল্প ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট নয়।
এছাড়া ‘খুলনা পানি সরবরাহ প্রকল্প (ফেজ-২)’-এর দরপত্র মূল্যায়ন কমিটিতে তার অন্তর্ভুক্তি নিয়েও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, বড় প্রকল্পের টেন্ডার কমিটিতে পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকায় তার সিদ্ধান্ত গ্রহণে নানা অসঙ্গতি দেখা দিয়েছে, যা পুরো প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
