বুয়েট শিক্ষার্থী সনি হত্যা মামলার দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মুশফিক উদ্দিন টগর অস্ত্র ব্যবসায় জড়িত: র্যাব
বুয়েট শিক্ষার্থী সাবেকুন নাহার সনি হত্যা মামলার দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ও সাবেক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল নেতা মুশফিক উদ্দিন টগর অবৈধ অস্ত্র ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে জানিয়েছে র্যাব।
র্যাব জানায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর আজিমপুর এলাকা থেকে মুশফিককে আটক করা হয়। এ সময় তাঁর কাছ থেকে একটি রিভলবার, ১৫৬ রাউন্ড গুলি, একটি খালি খোসা, দুটি মুখোশ এবং দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। টগর সীমান্ত থেকে অবৈধ অস্ত্র এনে ঢাকায় বিভিন্নজনের কাছে বিক্রি করতেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে রাজধানীর মুগদা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রয়েছে বলেও জানিয়েছে র্যাব।
সনি হত্যা মামলা
২০০২ সালের ৮ জুন বুয়েট ছাত্রদলের তৎকালীন সভাপতি মোকাম্মেল হায়াত খান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এসএম হলের ছাত্রদল নেতা মুশফিক উদ্দিন টগরের গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন বুয়েট শিক্ষার্থী সাবেকুন নাহার সনি। দরপত্র নিয়ে ওই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৯৯৯ ব্যাচের ছাত্রী সনি সেদিন ক্লাস শেষে হলে ফেরার পথে গুলির আঘাতে নিহত হন। তাঁর মৃত্যুতে সারা দেশে তীব্র আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে।
২০০৩ সালের ২৯ জুন ঢাকার বিচারিক আদালতে মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। রায়ে মুশফিক উদ্দিন টগর, মোকাম্মেল হায়াত খান ওরফে মুকিত এবং নুরুল ইসলাম সাগরকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া আরও পাঁচজনকে দেওয়া হয় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। পরবর্তীতে ২০০৬ সালের ১০ মার্চ উচ্চ আদালত মুশফিকসহ মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তিনজনের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে পরিবর্তন করেন।
