ভোটের আগে পরের সংঘর্ষে নিহত ১৬, আহত ২,৫০৩
নিজস্ব প্রতিবেদক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটের আগে ও পরে দেশে সহিংসতা এবং সংঘর্ষের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। নির্বাচনী উত্তেজনা এবং রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে চলতি ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশজুড়ে প্রায় ৭০০-এর বেশি সহিংস ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় অন্তত ১১ জন নিহত এবং ২ হাজার ৫০৩-এর বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এবং যুক্তরাজ্যভিত্তিক দ্য গার্ডিয়ান জানায়, ভোটের প্রচারের সময়ে বেশ কিছু এলাকায় প্রতিদ্বন্দ্বী দলের মধ্যে সংঘর্ষ, মিছিল ও সমাবেশে হামলার ঘটনা ঘটেছে।
দেশীয় অনলাইন সংবাদমাধ্যম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম জানিয়েছে, মুন্সিগঞ্জ, ময়মনসিংহ ও বাগেরহাটে নির্বাচনের আগে সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও স্থানীয় অফিসে হামলার ঘটনা ঘটেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছে।
নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর সহিংসতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। ভারতের সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, নির্বাচনী কেন্দ্র ও আশেপাশের এলাকায় সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ এবং রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে অন্তত ১১ জন নিহত ও ১,৩০০-এর বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, ফল ঘোষণার পর কিছু এলাকায় বিচ্ছিন্ন সহিংসতা ও ভাঙচুরের ঘটনা লক্ষ্য করা গেছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডও উল্লেখ করেছে, জেলায় জেলায় সংঘর্ষ, ভাঙচুর এবং মামলা দায়েরের ঘটনা ঘটেছে।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) বিশ্লেষণ অনুযায়ী, রাজনৈতিক সহিংসতার পেছনে দলীয় নিয়ন্ত্রণের সীমাবদ্ধতা ও নেতৃত্বের অভাব রয়েছে। নির্বাচনী উত্তেজনা, ক্ষমতার দ্বন্দ্ব এবং প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষগুলোর মধ্যে বিরোধই সহিংসতার মূল কারণ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. রাশিদা আক্তার গণমাধ্যমে বলেন, ভোটের আগে সংঘর্ষ সীমিত ও আংশিকভাবে রাজনৈতিক প্রচারণার সঙ্গে সম্পর্কিত হলেও, ভোটের পর সংঘর্ষের পরিমাণ অনেক বেড়ে গেছে। এটি রাজনৈতিক উত্তেজনা ও স্থানীয় নেতাদের কৌশলের প্রভাব স্পষ্টভাবে দেখায়।
নির্বাচনের পর রাজনৈতিক উত্তেজনা এখনও পুরোপুরি কমেনি। তবে প্রশাসন নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
