যৌথ অভিযানের আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশে যৌথ অভিযান পরিচালনার বিষয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর তেজগাঁও এলাকায় আনসার ও ভিডিপির নতুন সদর দপ্তর নির্মাণের ‘শুভারম্ভ ফলক’ উন্মোচন শেষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশ, বিজিবি, এসআরবি (সাবেক র্যাব) ও আনসার বাহিনীর সমন্বিত কার্যক্রম একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদক নির্মূলে এসব বাহিনী নিয়মিতভাবেই সমন্বিতভাবে কাজ করছে। ভবিষ্যতে এ কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপির জন্য পরিকল্পিত ও উপযুক্ত স্থানে নিজস্ব সদর দপ্তর নির্মাণের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা পূরণ হতে যাচ্ছে। গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে আনসার সদর দপ্তর নির্মাণের জন্য ৩ দশমিক ৪২৮ একর বা প্রায় ১১ বিঘা জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বর্তমানে খিলগাঁওয়ের অপরিসর জায়গা থেকে আনসার সদর দপ্তরের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। জায়গার সংকট ও যাতায়াতের সীমাবদ্ধতা দূর করতে নতুন স্থানে আধুনিক ও বৃহৎ অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে দেশে প্রায় ২০ হাজার ব্যাটালিয়ন আনসার ও ৬০ হাজার অঙ্গীভূত আনসার সদস্য রয়েছেন। এছাড়া ৩৫ হাজার ভিডিপি দলনেতার অধীনে প্রায় ৬০ লাখ প্রশিক্ষিত জনশক্তি রয়েছে। নিয়মিত ও অনিয়মিত সদস্য মিলিয়ে আনসার-ভিডিপি দেশের বৃহৎ জনবলসমৃদ্ধ বাহিনী।
কেন্দ্রীয়ভাবে দায়িত্ব পালনকারী আনসার সদস্যদের আবাসন সংকট নিরসনে ডরমেটরি ও ব্যারাক নির্মাণের পাশাপাশি ঢাকার আশুলিয়া ও শেরেবাংলা নগরেও অতিরিক্ত সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী।
জাতীয় সংকট ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনসার বাহিনীর অবদানের প্রশংসা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাদের আর্থিকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের দাবিদাওয়া পর্যায়ক্রমে পূরণে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বিষয়ে তিনি বলেন, দায়িত্বে অবহেলা বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে শুধু প্রত্যাহার নয়, যথাযথ বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি অপরাধের ধরন অনুযায়ী ফৌজদারি মামলাও করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘ডিসেম্বর আমাদের বিজয়ের মাস। এই মাসে কোনো অপশক্তি দেশে কোনো ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারবে না।’
ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যানজট কমাতে অটোমেশন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হচ্ছে এবং সড়কে যানবাহন চলাচলে শৃঙ্খলা ফিরছে।
রাস্তা খনন ও নির্মাণকাজের কারণে যাতে যানজট সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, পুরো রাস্তা একসঙ্গে না কেটে খণ্ড খণ্ডভাবে কাজ শেষ করতে হবে এবং কাজ শেষে দ্রুত রাস্তা পুনর্নির্মাণ করতে হবে।
