সাউথ পয়েন্ট কলেজের ১১তলা থেকে পড়ে আহত অমিতের মৃত্যু
নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর সাউথ পয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের মালিবাগ ক্যাম্পাসের বহুতল ভবন থেকে পড়ে গুরুতর আহত দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী অমিত ঘোষ মারা গেছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ৬টা ৪৫ মিনিটে শ্যামলীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর বিষয়টি কলেজের দুই শিক্ষক নিশ্চিত করেছেন।
শিক্ষকরা জানান, রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটের দিকে অমিত কলেজের ৬ নম্বর ভবনের ১১তলা থেকে নিচে পড়ে গুরুতর আহত হয়। পরে দ্রুত তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে পরিবারের সদস্যরা তাকে শ্যামলীর একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার সকালে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
অমিত ঘোষ সাউথ পয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের ইংরেজি ভার্সনের দ্বাদশ শ্রেণির ‘আইসোটোপ’ সেকশনের শিক্ষার্থী ছিল। তার মৃত্যুতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
সোমবার শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের বিভিন্ন গ্রুপে কলেজের শিক্ষকদের পক্ষ থেকে অমিতের মৃত্যুর খবর জানানো হয়। সেখানে তার অকালমৃত্যুতে সাউথ পয়েন্ট পরিবার গভীর শোক প্রকাশ করে।
দুর্ঘটনা নাকি আত্মহত্যা, উঠছে প্রশ্ন
অমিত কীভাবে ১১তলা থেকে নিচে পড়ে গেল, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। শিক্ষকরা ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে ধারণা করলেও বিষয়টি নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে।
জানা গেছে, অমিত যে ভবন থেকে পড়ে যায় সেটি নির্মাণাধীন। ভবনটির ১১তলা অংশ খোলা ছিল এবং সেখানে নির্মাণকাজ চলছিল। শিক্ষার্থীদের ওই এলাকায় প্রবেশ নিষেধ ছিল বলে জানা গেছে। ফলে অমিত সেখানে কীভাবে গেল এবং কীভাবে নিচে পড়ে গেল, তা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন অভিভাবকদের একটি অংশ।
অন্যদিকে, অমিতের ব্যবহৃত ফেসবুক প্রোফাইলের বায়োতে তার জন্মতারিখের সঙ্গে ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ মৃত্যুর তারিখ হিসেবে উল্লেখ করা ছিল। এ বিষয়টি সামনে আসার পর শিক্ষক ও অভিভাবকদের একটি অংশ ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে ধারণা করছেন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে এক অভিভাবক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেন, অমিত নিজেই ভবন থেকে লাফ দিয়েছিল। তার ব্যাগে একটি সুইসাইড নোট পাওয়ার কথাও তিনি উল্লেখ করেন। তবে এসব তথ্যের স্বাধীন কোনো আনুষ্ঠানিক সত্যতা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পুলিশের তদন্ত
ঘটনার পর রামপুরা থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ বিষয়ে থানায় এখনো কোনো অভিযোগ জমা পড়েনি বলে জানিয়েছেন রামপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহাঙ্গীর।
তিনি বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ বিষয়ে অভিযোগ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অমিতের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ১১তলা থেকে তার পড়ে যাওয়ার পরিস্থিতি নিশ্চিত করতে তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
