পুরোপুরি অবসরে যাচ্ছে দিয়েগো জোতার ২০ নম্বর জার্সি

পুরোপুরি অবসরে যাচ্ছে দিয়েগো জোতার ২০ নম্বর জার্সি

মাত্র ২৮ বছর বয়সেই জীবনপ্রদীপ নিভে গেছে লিভারপুল ও পর্তুগালের ফরোয়ার্ড দিয়েগো জোতার। স্পেনের জামোরাহ প্রদেশে ভয়াবহ গাড়ি দুর্ঘটনায় ছোট ভাই আন্দ্রে সিলভাসহ তিনি মারা যান। দুই ফুটবলারকে হারিয়ে শোকাচ্ছন্ন ফুটবল বিশ্ব। এবার জোতার সম্মানে তার পরিহিত ২০ নম্বর জার্সিটি অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে লিভারপুল।

শুক্রবার ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের চ্যাম্পিয়ন ক্লাবটি এই ঘোষণা দিয়েছে। কেবল লিভারপুল পুরুষ সিনিয়র দলই নয়, নারী ও একাডেমির বয়সভিত্তিক দলসহ প্রতিটি ক্ষেত্রেই আর ২০ নম্বর জার্সি কাউকে দিতে চায় না অলরেডরা। এক বিবৃতিতে লিভারপুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ‘এটি সেই নম্বর যেটি তিনি গর্ব ও সম্মানের সঙ্গে পরতেন, আমাদের অগণিত জয়ের প্রক্রিয়ায় নিয়ে গেছেন— দিয়েগো জোতা লিভারপুল ফুটবল ক্লাবের ২০ নম্বর হিসেবে চিরস্থায়ী হয়ে থাকবেন।’

জোতা নিজের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে সফল মৌসুমটা কাটিয়েছেন এবার। লিভারপুলের হয়ে ২০তম ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ টাইটেল এবং পর্তুগালের হয়ে শিরোপা জিতেছেন উয়েফা নেশন্স লিগে। সবমিলিয়ে লিভারপুলের হয়ে ১৮২ ম্যাচে ৬৫ গোল করেন এই ফরোয়ার্ড। একইসঙ্গে অলরেডদের জার্সিতে তার এফএ কাপ, ইংলিশ লিগ কাপ, কমিউনিটি শিল্ড ও প্রিমিয়ার লিগ জয়েরও কীর্তি রয়েছে।

জোতার জন্ম পর্তুগালের পোর্তোয়। সেখানকারই ক্লাব পাকোস দে ফেরেরার হয়ে ফুটবলজীবন শুরু। ২০১৫ সালে অভিষেক হওয়া এই ফরোয়ার্ড এক বছর পর স্পেনের অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদে যোগ দেন। তবে লা লিগায় একটি ম্যাচও খেলতে পারেননি। এক বছর লোনে কাটান এফসি পোর্তোয়। সেখানে আট গোল করেন। লোনে খেলার পর পাকাপাকিভাবে জোতাকে কিনে নেয় উলভ্‌স। প্রথম মৌসুমে ১৭ গোল এবং পরের মৌসুমে ১৬ গোল করেন তিনি। ২০২০ সালে উলভস থেকে জোতা যোগ দেন লিভারপুলে। সেখানে তৎকালীন কোচ ইয়ুর্গেন ক্লপের দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হয়ে ওঠেন।

লিভারপুল ক্লাবের প্রধান নির্বাহী মাইকেল এডওয়ার্ডস জানিয়েছেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, লিভারপুলের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো ব্যক্তিকে এমন একটি সম্মাননা দেওয়া হলো। সুতরাং, বলা যায় একজন অনন্য ও অসাধারণ মানুষের প্রতি এটি বিশেষ শ্রদ্ধাঞ্জলি। এই স্কোয়াড নম্বরটি অবসর দিয়ে আমরা একে চিরস্থায়ী করে নিয়েছি। এটি আমরা কখনোই ভুলে যাব না।’

লিভারপুল ও পর্তুগাল জাতীয় দলের হয়ে একত্রে খেলা সতীর্থরা গত সপ্তাহে জোতা ও তার ভাইয়ের শেষকৃত্যে অংশ নেন। সেখানেই জন্মভূমি পোর্তোর গোন্ডোমারে চিরসমাহিত করা হয়েছে এই দুই ফুটবলারকে। এ ছাড়া পুষ্পস্তবক দিয়ে তাকে সম্মাননা জানানোর আয়োজন ছিল লিভারপুলের ঘর অ্যানফিল্ড স্টেডিয়ামের বাইরে। যেখানে লিভারপুলের ভক্ত–সমর্থক ও সংশ্লিষ্টরা জোতাকে শেষ শ্রদ্ধা জানান।

BD Short News 24

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *