দাপুটে স্পেনের সামনে মার্টিনেজ লড়েছিলেন একা!

দাপুটে স্পেনের সামনে মার্টিনেজ লড়েছিলেন একা!

বিশ্বকাপ শিরোপার ধরে রাখার লক্ষ্যে এসেছিলেন ভাঙা আঙুল নিয়ে। টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই আগের আসরে গোল্ডেন গ্লাভজয়ী এমিলিয়ানো মার্টিনেজকে পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় ছিলেন লিওনেল স্কালোনি। সেসব ছাপিয়ে প্রতি ম্যাচেই যথারীতি আর্জেন্টিনার গোলবারের দায়িত্ব সামলেছেন মার্টিনেজ। যদিও পুরো আসরে গোল রক্ষায় নামের প্রতি সেভাবে সুবিচার করতে পারছিলেন না। কিন্তু ফাইনালে তিনিই হয়ে ‍উঠলেন স্কালোনির প্রধান যোদ্ধা!

২০২৬ বিশ্বকাপে নিজের সেরা ম্যাচ খেলেও দিবু মার্টিনেজ দলের শিরোপা রক্ষা করতে পারেননি। ১২০ মিনিটে তিনি ঠেকিয়েছেন স্পেনের ১১টি শট। অথচ টুর্নামেন্টের সেরা গোলরক্ষকের পুরস্কার জেতা স্পেনের উনাই সিমনের সবমিলিয়ে সেভ ১০টি। স্পেনের দাপুটে পারফরম্যান্সের সামনে যেখানে আর্জেন্টিনার প্রতিটি বিভাগ ছিল অসহায়, বিপরীতে শেষ পর্যন্ত লড়েছেন মার্টিনেজ। হারের পর সতীর্থদের পাশে দাঁড়িয়ে তার আচরণও ছিল প্রশংসনীয়।

ম্যাচের শুরুতেই লামিনে ইয়ামালের শট ঠেকিয়ে শুরু। এরপর মিকেল ওয়ারজাবালের জোরালো প্রচেষ্টা, দ্বিতীয়ার্ধে আলেক্স বায়েনার শট, দানি ওলমোর দুর্বল প্রচেষ্টা, ফেরান তোরেসের হেড, পেদ্রির শট, পাউ কুবারসির আরেকটি প্রচেষ্টা—সবই প্রতিহত করেন আর্জেন্টিনাকে ১০৬ মিনিট পর্যন্ত ম্যাচে টিকিয়ে রাখা গোলরক্ষক মার্টিনেজ। একইভাবে আইমেরিক লাপোর্তের শট, নিকো উইলিয়ামসের হেড এবং ইয়ামালের ফ্রি-কিকও প্রতিহত হয়েছে তার হাতে।

তবে এত লড়াইয়ের পরও একটি মুহূর্ত দিবুকে তাড়া করবে। নাহুয়েল মোলিনার পেছনে পড়া একটি ক্রসে নিকো উইলিয়ামস হেডে বলটি ফেরান, যখন মনে হচ্ছিল বলটি মাঠের বাইরে চলে যাবে। সেই বলেই ফেররান তোরেস গোল করে কাঁপালেন আলবিসেলেস্তেদের জাল ও টানা দ্বিতীয় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন। অনেকের মতে, ক্রসটি আটকানোর সুযোগ ছিল দিবুর। কিন্তু তিনি সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগেছিলেন, ছয় গজের বক্সেই থেকে যান। সেই সুযোগই কাজে লাগায় স্পেন। ভেঙে যায় আর্জেন্টিনার চতুর্থ বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন।

সাড়ে তিন বছর ধরে দিবুর গ্লাভসের ওপরও মেসি-আলভারেজদের সেই স্বপ্ন অনেকটাই নির্ভর করছিল। ২০২২ সালে তৃতীয় শিরোপা জয়ের পর তিনি বলেছিলেন, ২০২৬ সালে আরও একটি তারকা বুকে নিয়ে ফিরতে চান। তবে খুব কাছাকাছি গিয়েও আর সেটি পূরণ হয়নি। ইউরোপা লিগের ফাইনালে ডান হাতের অনামিকা আঙুল ভেঙে যাওয়ার পর ইংল্যান্ডের একাধিক হ্যান্ড স্পেশালিস্ট অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি সেই পথ বেছে নেননি। নিজের ভাষায়, শরীরকে স্বাভাবিকভাবেই সেরে ওঠার সুযোগ দিয়েছিলেন। তবে প্রতি ম্যাচে যে ব্যথা নিয়ে খেলেছেন তা স্বীকার করেন ফাইনালের আগমুহূর্তে।

মাঠে যেমন আত্মবিশ্বাস, ক্ষিপ্রতা ও সতর্কতায় ছিল তার চেনা ছাপ। সর্বস্ব উজাড় করে দেওয়ার পরও সংযত আচরণে সবার চেয়ে ভিন্ন চরিত্র ধারণ করেন। শেষ বাঁশি বাজতেই বিধ্বস্ত আর্জেন্টিনা যেন পুরোদমে ভঙ্গুর। তবে একজন ছিলেন ব্যতিক্রম। ‘দিবু’ মার্তিনেজ হতাশ সতীর্থদের মাঝেই ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন। ভেতরে ভেতরে তিনিও বিধ্বস্ত, কারণ চতুর্থ বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন ছিল তারও। তবু একে একে সতীর্থদের পিঠ চাপড়ে দিচ্ছিলেন, কথা বলছিলেন, সান্ত্বনা দিচ্ছিলেন। তার লড়াইটা যেন চলছিল তখনও!

rumaakter144e@gmail.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *