রাজশাহীতে নারী প্রার্থীকে মারধরের ঘটনায় মামলা নেয়নি পুলিশ; ধরা-ছোয়ার বাইরে অভিযুক্ত

রাজশাহীতে নারী প্রার্থীকে মারধরের ঘটনায় মামলা নেয়নি পুলিশ; ধরা-ছোয়ার বাইরে অভিযুক্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক:
বিএনপি নেতা কর্তৃক ভোট কেন্দ্রের সামনে থেকে রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের নারী স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ হাবিবা বেগমকে থাপ্পর মারার ঘটনায় মামলা নেয়নি কাটাখালি থানা পুলিশ। অপরাধী ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ওই নারী প্রার্থী। ন্যায় বিচার পাওয়ার আশায় তারেক রহমান ও পুলিশের আইজিপি বরাবর পাঠিয়েছেন লিখিত অভিযোগপত্র।

থাপ্পর দেওয়া ওই বিনএপি নেতার নাম রজব আলী। তিনি পবা উপজেলার হরিয়ান ইউনিয়নের বাসিন্দা। তিনি ইউনিয়নের এক নাম্বার ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি।

জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে ভোটগ্রহণ চলাকালে পবার নলখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে ভোটারদের সাথে কথা বলা নিয়ে তর্কে জড়ান তারা। তর্কাতর্কির একপর্যায়ে হাবিবা বেগমকে সজোরে কয়েকটি থাপ্পর দেন ওই নেতা। এসময় উপস্থিত জনতা ওই নারীকে রক্ষা করে দুই সন্তানসহ পাশের একটি চেয়ারে বসান। কিন্তু পরে অবস্থা বেসামাল দেখে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। অন্যদিকে থাপ্পর দেওয়া নেতাকে সরিয়ে নেওয়া হয় স্থান থেকে।

হাসপাতাল থেকে বের হয়ে ওই দিনেই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে অভিযোগ জানান তিনি। তবে থানায় মামলা দিতে গেলে তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হয় অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘আমাকে মারধর করার পর ওইদিনই আমি কাটাখালি থানায় মামলা করতে গিয়েছিলাম। কিন্তু পুলিশ মামলা নেয়নি। আমি ম্যাজিস্ট্রেটের কাছেও অভিযোগ দিয়েছি, তারা গুরুত্ব দেয়নি’।

ন্যায় বিচার পাওয়ার আশায় তারেক রহমান এবং আইজিপির কাছে ‘নির্বাচনী সহিংসতা, হত্যাচেষ্টা, প্রশাসনিক পক্ষপাত ও চরম মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে জরুরী ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন’ শিরোনামে লিখিত অভিযোগ পাঠিয়েছেন তিনি। এতে ঘটনার বিবরণসহ রাজশাহী-৩ আসনের ধানের শীষের বিজয়ী প্রার্থী অ্যাড. শফিকুল হক মিলনের প্রত্যক্ষ নির্দেশে এ ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করা হয়।

এছাড়াও এ হামলার ঘটনায় জড়িত বিএনপি সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দলীয় সাংগঠনিক তদন্ত ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ, রাজনৈতিক অবস্থান থেকে প্রশাসনের উপর নৈতিক চাপ সৃষ্টি এবং অবিলম্বে FIR গ্রহণ, নিরপেক্ষ তদন্ত ও সুরক্ষা নিশ্চিত করে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিষয়টি মানবাধিকার লঙ্ঘন ও নির্বাচনকালীন সন্ত্রাস হিসেবে উপস্থাপন করার জন্য কেন্দ্রীয় মিডিয়া সেলকে নির্দেশ প্রদান করার দাবি জানান তিনি।

অন্যদিকে এমন বৈষম্য চলতে থাকলে নারীরা ভবিষ্যতে রাজনীতিতে আসবে না শঙ্কা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাকে নানাভাবে হেয় এবং হয়রানি করা হয়েছে। এগুলোর সুরাহা না হলে রাজনীতি করার স্পৃহা বেঁচে থাকবে না। আগামীতে নারীরা রাজনীতিতে আসবে না। আমি আইনিভাবে লড়ে যাব। আগামীতে নারীদের রাজনীতিতে যেন প্রতিবন্ধকতা না আসে সে জন্য লড়ব। এর সুষ্ঠু বিচার হতে হবে’।

এ বিষয়ে জানতে কাটাখালি থানার অফিসার ইনচার্জকে বারংবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

তবে কথা হয় রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমানের সাথে। তিনি বলেন, নির্বাচনের দিন ওসি থানার বাইরে ব্যস্ত ছিলেন এমন সময়ে তিনি থানাতে যাওয়ায় ওসিকে পাননি। তাছাড়া ওসির কর্মকান্ড নিয়ে অভিযোগ থাকলে তিনি বিভাগীয় কমিশনার পর্যন্ত আসতে পারতেন তবে আমার জানা মতে তিনি আসেননি।

BD Short News 24

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *