শিক্ষকের নিষ্ঠুর আচরণের অভিযোগ, মেডিকেল শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা

শিক্ষকের নিষ্ঠুর আচরণের অভিযোগ, মেডিকেল শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা

কুমিল্লার একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী অর্পিতা নওশিনের মৃত্যুকে ঘিরে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, দীর্ঘদিন ধরে একাডেমিক চাপ এবং এনাটমি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. মনিরা জহিরের সঙ্গে কিছু ব্যক্তিগত ইস্যু নিয়ে জটিল সম্পর্কের কারণে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন।

নওশিনের সহপাঠীদের দাবি, ডা. মনিরা জহিরের নিষ্ঠুর আচরণ ও বারবার পরিকল্পিতভাবে ফেল করানোর কষ্ট এবং হতাশা থেকেই তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।

জানা যায়, কুমিল্লা সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের এমবিবিএস শিক্ষার্থী অর্পিতা নওশিন প্রথম বর্ষ থেকেই এনাটমি বিষয়ে জটিলতায় পড়েন। তার সহপাঠীরা ইতোমধ্যে পঞ্চম বর্ষে পৌঁছালেও তিনি একাধিকবার পরীক্ষা দিয়েও উক্ত বিষয়ে উত্তীর্ণ হতে পারেননি। ফলে তাকে বারবার প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ক্লাস ও পেশাগত পরীক্ষায় অংশ নিতে হচ্ছিল।

পরিবারের দাবি, প্রথম বর্ষে থাকাকালীন এনাটমি বিভাগের এক শিক্ষকের সঙ্গে ব্যক্তিগত কিছু বিষয়কে কেন্দ্র করে তার সম্পর্কের অবনতি ঘটে। পরবর্তীতে এই বিষয়টি তার একাডেমিক অগ্রগতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে বলে তারা জানতে পেরেছেন। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই পরিস্থিতি অর্পিতাকে চরম মানসিক চাপ ও হতাশার মধ্যে রেখেছিল।

অভিযোগ রয়েছে, এই চাপ সহ্য করতে না পেরে শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সন্ধ্যায় তিনি অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ সেবন করেন। পরে তার মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে। তবে এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।

অর্পিতার এই মর্মান্তিক মৃত্যু মেডিকেল শিক্ষাব্যবস্থার মানবিক দিক নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা, ন্যায্য মূল্যায়ন এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখার বিষয়ে সচেতন মহল জোরালো দাবি তুলেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সহানুভূতিশীল পরিবেশ নিশ্চিত না হলে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধ করা কঠিন হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা জোরদার করা এখন সময়ের দাবি।

BD Short News 24

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *