রামিসা হত্যাকাণ্ড, পাওয়া গেল ডলারের পরিচয়

রামিসা হত্যাকাণ্ড, পাওয়া গেল ডলারের পরিচয়

রাজধানীর পল্লবীর আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা আদালতে বারবার ‘ডলার’ নামের এক ব্যক্তির কথা বলার পর তাকে ঘিরে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ পর্যন্ত তদন্ত, সাক্ষ্য-প্রমাণ কিংবা ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণে ডলার নামের ওই ব্যক্তির সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

জানা গেছে, ডলারের বাড়ি পল্লবী এলাকাতেই। যে ভাড়া বাসায় শিশু রামিসার ওপর নির্যাতন চালিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে, সেই বাড়ি থেকে কয়েকটি বাড়ি পরেই তার বসবাস।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ডলার মাদকাসক্ত এবং পেশায় অটোরিকশাচালক। একই এলাকায় রিকশার গ্যারেজ মেকানিক হিসেবে কাজ করতেন আসামি সোহেল রানা। সে সূত্রে তাদের মধ্যে পূর্বপরিচয় ছিল এবং গ্যারেজে ডলারের নিয়মিত যাতায়াত ছিল।

স্থানীয় বাসিন্দারা আরও জানান, ডলার ব্যক্তিগতভাবে ধনী না হলেও তাদের পরিবার অবস্থাসম্পন্ন। তাদের একটি বাড়ি রয়েছে। নেশার খরচ জোগাতেই তিনি অটোরিকশা চালান। পাঁচ ভাই ও দুই বোনের মধ্যে ডলার সবার ছোট।

ডলারের বড় ভাই সেলিম রায়হান গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, প্রায় ১৯ বছর ধরে পরিবারের সঙ্গে ডলারের কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি নিজের মতো চলাফেরা করেন এবং মাদকাসক্ত হওয়ার কারণে পরিবারের সদস্যরাও তাকে এড়িয়ে চলেন। তবে রামিসা হত্যাকাণ্ডে ডলারের সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলে তারও সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সোমবার শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ গঠনের সময় আদালতে হাজির করা হলে সোহেল রানা সাংবাদিকদের সামনে দাবি করে, ‘ধর্ষণ করেছে ডলার, মারছেও ডলার। আমি শুধু লাশ গুম করতে চেয়েছি।’ একপর্যায়ে সে আরও দাবি করে, ‘মেয়েটাকে এনে দিতে পারলে ডলার আমাকে দুই লাখ টাকা দেওয়ার কথা বলেছিল।’

তবে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক ওহিদুজ্জামান ভূঁইয়া বলেন, ‘তদন্ত চলাকালে ডলার নামে একজনের বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেলেও তার বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ মেলেনি। ডিজিটাল তদন্তেও ঘটনাস্থলে তার উপস্থিতির তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগপত্রে তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।’

তদন্ত কর্মকর্তার ভাষ্য, ঘটনার পর সোহেল রানা জানালার গ্রিল কেটে একাই পালিয়ে যায়। জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রাথমিক তদন্তের সময়ও সে বা তার স্ত্রী ডলারের নাম উল্লেখ করেনি। পরে আদালতে এসে হঠাৎ এই দাবি তোলাকে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বিচারপ্রক্রিয়া ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা হিসেবে দেখছেন।

উল্লেখ্য, গত ১৯ মে পল্লবীর একটি বাসা থেকে শিশু রামিসা আক্তারের খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আদালতে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দেন। তদন্ত শেষে পুলিশ মামলাটির অভিযোগপত্র আদালতে জমা দিয়েছে এবং বিচার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

BD Short News 24

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *