অটোরিকশা ধর্মঘটে রাজধানীতে ভোগান্তি, বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর বিভিন্ন রিকশা গ্যারেজে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার প্রতিবাদে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালকদের ধর্মঘটে ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী। সোমবার (৫ অক্টোবর) সকাল থেকে অটোরিকশা চলাচল বন্ধ রেখে বিভিন্ন সড়কে অবস্থান ও বিক্ষোভ করেন চালকেরা। এতে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি এলাকায় যানজট সৃষ্টি হয়। পাশাপাশি গণপরিবহনে বাড়তি চাপ তৈরি হওয়ায় অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগ বেড়ে যায়।
ধর্মঘটের আগে রোববার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করে অটোরিকশা চলাচল বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার উল্লেখযোগ্যসংখ্যক অটোরিকশা সড়কে না থাকায় যাত্রীদের বিকল্প পরিবহনের ওপর নির্ভর করতে হয়।
বিশেষ করে যেসব এলাকায় মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াত অটোরিকশার ওপর বেশি নির্ভরশীল, সেসব এলাকায় ভোগান্তি আরও তীব্র হয়।
যাত্রীরা অভিযোগ করেন, অটোরিকশা না চলায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা, প্যাডেলচালিত রিকশা ও ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেলের চালকদের কেউ কেউ বাড়তি ভাড়া দাবি করছেন।
শাহিনবাগ এলাকায় সিভিল এভিয়েশন স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে থেকে নাখালপাড়া রেলগেটের পাশের বাসায় দুই সন্তানকে নিয়ে যাওয়ার জন্য এক মায়ের কাছে ৭০ টাকা ভাড়া চাওয়া হয়। অথচ স্বাভাবিক সময়ে একই দূরত্বে সর্বোচ্চ ৩০ টাকা ভাড়া নেওয়া হতো বলে জানান তিনি।
এদিকে বৃদ্ধ মাকে নিয়ে নাখালপাড়ার সমিতি বাজার এলাকা থেকে মহাখালীর একটি হাসপাতালে যাওয়ার জন্য দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেন স্কুলশিক্ষক তাসলিমা আক্তার। কোনো অটোরিকশা না পেয়ে পরে জানতে পারেন, চালকেরা ধর্মঘট পালন করছেন। বাধ্য হয়ে তিনি প্যাডেলচালিত রিকশার এক চালকের সঙ্গে দ্বিগুণ ভাড়ায় হাসপাতালে যাওয়ার বিষয়ে সমঝোতা করেন।
অন্যদিকে, অটোরিকশা চালকদের সড়ক অবরোধের কারণে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয়। কোথাও কোথাও দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হওয়ায় দুর্ভোগে পড়েন নগরবাসী।
অটোরিকশা চালকদের দাবি, রাজধানীর বিভিন্ন রিকশা গ্যারেজে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ায় তাদের জীবিকা ও অটোরিকশা পরিচালনা ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপনসহ সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
