সালথায় মুরগি নিয়ে বিরোধ, গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু
আরিফুল ইসলাম, সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
ফরিদপুরের সালথায় ডালিম বেগম (৪০) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সন্ধ্যার পর উপজেলার ভাওয়াল ইউনিয়নের তুগোলদিয়া গ্রামের নিজ বসতঘরের টয়লেট থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরিবারের অভিযোগ, প্রতিবেশীদের সঙ্গে পোষা মুরগি নিয়ে বিরোধের জেরে তাঁকে হত্যা করে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।
নিহত ডালিম বেগম ভ্যানচালক আব্দুল মোল্যার স্ত্রী। তিনি দুই সন্তানের জননী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ডালিম বেগমের পোষা মুরগি প্রায়ই প্রতিবেশী কামরুল মোল্যার বাড়িতে যাতায়াত করত। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে প্রায় এক মাস আগে প্রতিবেশীরা তাঁর দুটি মুরগিকে বিষ প্রয়োগে এবং কয়েকটি মুরগিকে পিটিয়ে মেরে ফেলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ডালিম বেগমের সঙ্গে প্রতিবেশীদের কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। মৃত মুরগিগুলো তিনি অন্য প্রতিবেশীদেরও দেখান। বিষয়টি নিয়ে সালিশ বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি বলে দাবি স্থানীয়দের।
গত বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে অসুস্থ প্রতিবেশী বকুল মোল্যাকে দেখতে যাওয়ার সময় কামরুল মোল্যার উঠান দিয়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে আবারও বিরোধ দেখা দেয়। একপর্যায়ে কামরুল মোল্যা (৪০), তাঁর ভাবি কল্পনা বেগম (৪৫) ও ভাতিজা ইমামুল মোল্যা (২৪) ডালিম বেগমকে বেধড়ক মারধর করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ওই দিন সন্ধ্যায় বিষয়টি নিয়ে সালিশ বৈঠক হয়। তবে বৈঠকের সিদ্ধান্ত কামরুল মোল্যার পরিবারের সদস্যরা প্রত্যাখ্যান করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে বিরোধ আরও বাড়ে।
পরিবারের দাবি, বৃহস্পতিবার বিকেলে স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে থানায় অভিযোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন ডালিম বেগম। এর কয়েক ঘণ্টা পর সন্ধ্যায় নিজ বাড়ির টয়লেটে তাঁর ঝুলন্ত মরদেহ পাওয়া যায়।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, থানায় অভিযোগ দেওয়ার কথা বলায় ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্তরা তাঁকে হত্যা করে মরদেহ ঝুলিয়ে রেখেছেন। তাঁরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে কামরুল মোল্যা, কল্পনা বেগম ও ইমামুল মোল্যার বাড়িতে গিয়ে তাঁদের পাওয়া যায়নি। তাঁদের ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বরও বন্ধ পাওয়া গেছে। ফলে এ বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবুলুর রহমান খান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে থানায় নিয়ে আসে। শুক্রবার সকালে মরদেহ ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ওসি আরও জানান, এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
