কক্সবাজারে টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ আগুন, নিহত বেড়ে ১০, আহত ৯

কক্সবাজারে টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ আগুন, নিহত বেড়ে ১০, আহত ৯

কক্সবাজার প্রতিনিধি

কক্সবাজারের ইনানীতে মেরিন ড্রাইভসংলগ্ন টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১০ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৯ জন। শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ৭টার দিকে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

নিহত ব্যক্তিরা পর্যটক বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে মরদেহ পুড়ে যাওয়ায় তাঁদের পরিচয় শনাক্তে জটিলতা দেখা দিয়েছে। পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষার উদ্যোগ নিয়েছে প্রশাসন।

নিহতের সংখ্যা ১০ জনে পৌঁছানোর বিষয়টি চ্যানেল ২৪-কে নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন।

নিহতদের মধ্যে ছয়জনের পরিচয় জানা গেছে। তাঁরা হলেন ঢাকার বনশ্রীর ইসরাত জাহান মালিহা (৩০), মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩), খিলগাঁওয়ের লায়লা জাহান নাবিলা (২৭), নাফিসতা মীম (২৭), চুয়াডাঙ্গার ফারিহা কবির (৩৩) ও ফায়িজান আহম্মেদ (৫)। বাকি চারজনের পরিচয় এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় বাসিন্দা ও রিসোর্টে থাকা পর্যটকদের ভাষ্য, আগুন লাগার পর ধোঁয়া দেখা যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কয়েকটি বিকট শব্দ শোনা যায়। মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়লে আতঙ্কিত পর্যটকেরা হুড়োহুড়ি করে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় কয়েকজন বের হতে পারলেও অন্যরা রিসোর্টের ভেতরে আটকা পড়েন।

ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, খবর পেয়ে উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন। সকাল ৯টার দিকে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে রিসোর্ট থেকে ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় আরও নয়জনকে। তাঁদের মধ্যে সাতজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের অবস্থা আশঙ্কামুক্ত বলে জানা গেছে।

রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের দাবি, অগ্নিকাণ্ডের সময় ছয়টি কক্ষে ১৮ জন পর্যটক অবস্থান করছিলেন। রেফ্রিজারেটরের বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে তাঁদের ধারণা। তবে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

রিসোর্টটির বেশির ভাগ অংশ কাঠ দিয়ে তৈরি হওয়ায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ভবনের পেছনের অংশ ইট দিয়ে নির্মিত। প্রতিটি কক্ষে শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) ও রেফ্রিজারেটর থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বেড়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।

এদিকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা তদন্তে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ঘটনায় কোনো ধরনের অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান।

জেলা প্রশাসক জানান, নিহতদের পরিচয় শনাক্তে ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে। পাশাপাশি রিসোর্টটির প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছিল কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে পুলিশ অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও সার্বিক পরিস্থিতি তদন্ত করছে।

rumaakter144e@gmail.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *