ঈদের দীর্ঘ ছুটিতে অর্থনীতি স্থবির হবে না: অর্থ উপদেষ্টা
পঞ্চগড়ে ক্ষেতে ভুট্টা তুলতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক ছাত্রসহ দুই ভ্যানচালকের মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার (৪ জুন) সকাল ১০টার দিকে সদর উপজেলার ধাক্কামাড়া ইউনিয়নের ফকিরহাট বেংহারি পাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ওই গ্রামের চলছে শোকের মাতম।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ধাক্কামাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম দুলাল।
নিহতরা হলেন- বেংহারিপাড়া গ্রামের সফিজ উদ্দিনের ছেলে ভ্যান চালক রব্বানী (৩৫), একই গ্রামের লিয়াকত আলীর ছেলে মো. শাহিন (৩৮) এবং ওই গ্রামের সফিজুল ইসলামের ছেলে কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী জামিদুল ইসলাম (২১)।
এ ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ফকিরের হাট-বেংহারীপাড়া এলাকার সপিজুল ইসলামের ছেলে জয় ইসলাম (৩০)।
নিহত ব্যক্তিদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ফকিরের হাট-বেংহারীপাড়া এলাকায় রবিউল ইসলাম নামে এক কৃষকের ভুট্টাখেতের ফসল তুলে দিতে চুক্তি নিয়েছিলেন ১৪ জন শ্রমিক। ওই ভুট্টাখেতের ওপর দিয়ে বিদ্যুতের লাইন গেছে। সকালে তারা ভুট্টাখেতে ভুট্টা তুলতে গিয়ে দেখেন একটি বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে পড়ে আছে। তবে তখন বিদ্যুৎ ছিল না। পরে শ্রমিকেরা ভুট্টা তোলার কাজ শুরু করার কিছুক্ষণ পরে হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে আসে। এতে চারজন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। পরে অন্য শ্রমিকদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এসে তাদের উদ্ধারের চেষ্টা করেন। ঘটনাস্থলেই জামিদুল ইসলাম (২২) মারা যান। হাসপাতালে নেওয়ার পথেই গোলাম রাব্বানী ও শাহীন আলমও মারা যান।
এ দিকে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) আবুল কাশেম বলেন, হাসপাতালে যে ৩ জনকে আনা হয়েছিল, তার মধ্যে দুজনকে মৃত অবস্থায় পেয়েছি। একজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ধাক্কামাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম দুলাল বলেন, ভুট্টা তোলার কাজ শুরু করার কিছুক্ষণ পরে হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে আসলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তাদের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এ বিষয়ে পঞ্চগড় সদর থানার ওসি আবদুল্লাহ হিল জামান বলেন, এ ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা (ইউডি) দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। এখনো পর্যন্ত বিদ্যুতের লাইনটি কোন প্রতিষ্ঠানের, পল্লী বিদ্যুৎ নাকি নেসকোর, জানা যায়নি।
