অপ্রতিম হত্যা: ৩১ দিনের মধ্যে ৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র

অপ্রতিম হত্যা: ৩১ দিনের মধ্যে ৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র

কুমিল্লা প্রতিনিধি

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যা মামলায় চারজনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের ৩১ দিনের মধ্যে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া কর্মকর্তা) মো. লুৎফর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে গত ২০ অক্টোবর কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১ নম্বর আমলি আদালতের বিচারক আবিদা সুলতানা মলির আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়।

পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডে চারজনের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাঁদের সবাইকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। চারজনের মধ্যে দুজন কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন। বাকি দুজন অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাঁদের গাজীপুর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। অভিযুক্ত চারজনের মধ্যে তিনজন আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

দ্রুত অভিযোগপত্র দাখিল হওয়ায় এবার বিচারকাজও দ্রুত শেষ হবে বলে আশা করছে অপ্রতিমের পরিবার।

অপ্রতিমের বাবা ফিরোজ শাহরিয়ার বলেন, পুলিশ দ্রুত সময়ের মধ্যে অভিযোগপত্র দিয়েছে। এবার বিচারকাজও যেন দ্রুত শেষ হয়। তাঁর ছেলেকে যারা নির্মমভাবে হত্যা করেছে, আইন তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি দেবে বলে আশা করছেন তিনি।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকা থেকে নিখোঁজ হয় অপ্রতিম। মায়ের আইফোন নিয়ে ছবি তুলতে গিয়ে সে আর বাসায় ফেরেনি। পরে তার বাবা ফিরোজ শাহরিয়ার সদর দক্ষিণ মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

নিখোঁজের পরদিন ১৯ সেপ্টেম্বর দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ গেটের পাশে লালমাই পাহাড়ঘেঁষা সানন্দা গ্রামের একটি ঝোপ থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

অপ্রতিম কোটবাড়ি এলাকার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সঙ্গে থাকা আইফোনটি ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাকে হত্যা করা হয় বলে পুলিশের ভাষ্য। এ ঘটনায় জড়িত চারজনকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে অপ্রতিমের বাবার করা হত্যা মামলায় তাঁদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হয়। তাঁদের মধ্যে সিয়াম ছাড়া বাকি তিনজন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

১৩ বছর বয়সী শিক্ষার্থীকে হত্যার এ ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। এখন নিহতের পরিবারের প্রত্যাশা, দ্রুত বিচার সম্পন্ন করে অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

rumaakter144e@gmail.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *