আমরা সংবিধান সংশোধন নয়, সংস্কার চাই: মিয়া গোলাম পরওয়ার

আমরা সংবিধান সংশোধন নয়, সংস্কার চাই: মিয়া গোলাম পরওয়ার

সংবিধান সংশোধনের পরিবর্তে সংবিধান সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেছেন, জাতীয় সংসদে সংবিধান সংশোধনের জন্য গঠিত বিশেষ কমিটিতে ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিনিধি দেওয়া হবে না। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সংবিধানের মৌলিক কাঠামো পরিবর্তনের ক্ষেত্রে জুলাই জাতীয় সনদে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা উচিত।

সংবাদ সম্মেলনে গোলাম পরওয়ার বলেন, জাতীয় সংসদে সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে বিএনপির উদ্যোগে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটিতে বিরোধী দলের সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হলেও ১১ দলীয় ঐক্য শুরু থেকেই এর বিরোধিতা করে আসছে।

তিনি বলেন, সংস্কারের পথ এড়িয়ে সংশোধনের নামে এই কমিটি গঠনকে ১১ দলীয় ঐক্য ধারণাগতভাবে প্রত্যাখ্যান করছে। তাঁর দাবি, বিএনপির ৩১ দফাতেও সংবিধান সংস্কার কমিশন গঠনের কথা বলা হয়েছিল। একইভাবে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের কার্যক্রম ও গণভোটের লক্ষ্য ছিল রাষ্ট্র ও সংবিধানের সংস্কার।

গোলাম পরওয়ারের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি জুলাই জাতীয় সনদে অন্তর্ভুক্ত সাংবিধানিক সংস্কার প্রস্তাবের ওপর গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচন কমিশনের গেজেটের তথ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, বৈধ ভোটের ৬৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়ে। ওই গণভোটে জুলাই জাতীয় সনদের ৪৮টি সাংবিধানিক সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের বিষয়ে জনগণের মতামত নেওয়া হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, ২০২৫ সালের ১৩ নভেম্বর জারি করা ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’-এ নির্বাচিত প্রতিনিধিদের জাতীয় সংসদের সদস্যের পাশাপাশি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের বিধান রাখা হয়েছিল। তাঁর দাবি, ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি নবনির্বাচিত বিএনপি সংসদ সদস্যরা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি।

গোলাম পরওয়ার বলেন, জাতীয় সংসদ ও সংবিধান সংস্কার পরিষদকে একই প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তাঁর ব্যাখ্যায়, সংসদ বিদ্যমান সংবিধানের অধীনে গঠিত একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান, আর সংবিধান সংস্কার পরিষদের ক্ষমতার ভিত্তি জনগণের গাঠনিক ক্ষমতা বা ‘কনস্টিটিউয়েন্ট পাওয়ার’।

তিনি আরও বলেন, ‘সংবিধান সংসদ সৃষ্টি করে, সংসদ সংবিধান সৃষ্টি করে না।’ তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, জনগণ গণভোটের মাধ্যমে কোনো নির্দিষ্ট সংস্কার প্রক্রিয়া অনুমোদন করে থাকলে সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই সাংবিধানিক পরিবর্তন আনা উচিত।

rumaakter144e@gmail.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *