উৎপাদন শুরুর দুই দিনের মাথায় আবারও বন্ধ যমুনা সার কারখানা
জামালপুর প্রতিনিধি
দীর্ঘ আট মাস বন্ধ থাকার পর উৎপাদনে ফেরার মাত্র দুই দিনের মাথায় আবারও বন্ধ হয়ে গেছে জামালপুরের সরিষাবাড়ীর যমুনা সার কারখানা। বুধবার (৭ অক্টোবর) রাতে কারখানার বয়লার প্ল্যান্টে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে সার উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।
কারখানা সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন গ্যাস সংকটের কারণে উৎপাদন বন্ধ থাকার পর গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হলে সোমবার (৬ অক্টোবর) গভীর রাতে পুনরায় উৎপাদন শুরু করে যমুনা সার কারখানা। তবে দুই দিনের মধ্যেই বয়লার প্ল্যান্টে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।
কারখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার কারণেই বয়লার প্ল্যান্টে এ ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিতে পারে। বর্তমানে কারখানার অন্যান্য যন্ত্রাংশ সচল রয়েছে। বয়লার প্ল্যান্টের ত্রুটি মেরামত করা সম্ভব হলে পুনরায় উৎপাদন শুরু করা যাবে।
কারখানা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, উৎপাদন শুরুর পর দুই দিনে প্রায় ১ হাজার ৬০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার উৎপাদন হয়েছে।
যমুনা সার কারখানার উপমহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, বয়লার প্ল্যান্টের ত্রুটি মেরামতের কাজ চলছে। ত্রুটি সারিয়ে দুই দিনের মধ্যে কারখানায় আবার উৎপাদন শুরু হতে পারে।
জানা গেছে, গ্যাস সংকট ও বিভিন্ন যান্ত্রিক সমস্যার কারণে এর আগেও দীর্ঘ সময় বন্ধ ছিল যমুনা সার কারখানা। ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত প্রায় ২৩ মাস কারখানাটির উৎপাদন বন্ধ ছিল। পরে গ্যাসের চাপ বাড়লে উৎপাদন শুরু হয়। কিন্তু চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে আবার গ্যাস সংকটের কারণে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর গত ২০ সেপ্টেম্বর কারখানাটিতে গ্যাস সংযোগ দেওয়া হয়। প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষে ৬ অক্টোবর ভোররাতে পুনরায় ইউরিয়া সার উৎপাদন শুরু করা হয়।
দৈনিক ১ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে যমুনা সার কারখানার। বিসিআইসির তালিকাভুক্ত প্রায় ১ হাজার ৯০০ ডিলারের মাধ্যমে জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইলসহ উত্তরবঙ্গের ২১টি জেলায় সার সরবরাহ করে কারখানাটি।
কারখানা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, স্বাভাবিক গ্যাস সরবরাহের মাধ্যমে পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন চললে প্রতি মাসে প্রায় ২০০ কোটি টাকার সার উৎপাদন সম্ভব। এতে প্রায় ৬০ কোটি টাকা লাভ হয়। অন্যদিকে, উৎপাদন বন্ধ থাকলেও শুধু প্ল্যান্ট সচল রাখার জন্য গ্যাস বিল বাবদ মাসে প্রায় ৬ কোটি টাকা ব্যয় হয়।
