‘এসব জমিদারি স্টাইলে ভিসি আর চলবে না’, ববি উপাচার্যকে প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নূর
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শিক্ষার্থী সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সমালোচনা করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নূর। এ সময় তিনি বলেন, ‘এসব জমিদারি স্টাইলে ভিসি আর চলবে না।’
রোববার (৯ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টার দিকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৫তম ব্যাচের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে যোগ দেন প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নূর। অনুষ্ঠান শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের কাছে গিয়ে তাদের দাবিগুলো শোনেন তিনি। এ সময় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলার একপর্যায়ে উপাচার্যের সমালোচনা করে ওই মন্তব্য করেন প্রতিমন্ত্রী।
নুরুল হক নূর বলেন, ‘আমি আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়েই এখানে এসেছি। তাই আমি আপনাদের বুঝি, আমি আপনাদের সঙ্গে একমত। শিক্ষার্থী আহত হয়েছে, এখানে উপাচার্যের আসা দরকার ছিল। তিনি আসেননি। আমাদের ছাত্ররা কী নিয়ে এখানে আন্দোলন করছে?’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি সরকারের কাছে বলতে চাই, এসব জমিদারি স্টাইলে ভিসি আর চলবে না।’
এর আগে রোববার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন দপদপিয়া ব্রিজ এলাকায় বিআরটিসি বাস ও যাত্রীবোঝাই একটি মাহিন্দ্রের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে একজন নিহত ও অন্তত চারজন আহত হন। আহতদের মধ্যে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী ইয়াসিন আরাফাত গুরুতর আহত হন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নেওয়া হচ্ছিল।
তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ১০টার দিকে ইয়াসিন আরাফাত মারা যান। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর।
শিক্ষার্থীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ আরও বেড়ে যায়। এর আগে দুর্ঘটনার পর আহত শিক্ষার্থীর চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন, মহাসড়ক মেরামতসহ চার দফা দাবিতে রাত ৮টার দিকে বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়ক অবরোধ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এতে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
শিক্ষার্থীদের চার দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—আহত শিক্ষার্থীর সম্পূর্ণ চিকিৎসা ব্যয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বহন করা, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে মহাসড়ক মেরামত করা, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রূপাতলী পর্যন্ত সার্বক্ষণিক বাসের ব্যবস্থা করা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই পাশে ফুটপাত চালু করা।
আন্দোলনরত ববি বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী রাজিব বলেন, ‘যতক্ষণ পর্যন্ত আমাদের দাবি মানা না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের এই আন্দোলন চলবে। আমরা চাই, আমাদের সব দাবি দ্রুত মেনে নেওয়া হোক।’
আরেক আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ভূমিকা সরকার বলেন, ‘আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে রাস্তা মেরামতসহ নানা দাবি জানালেও তা পূরণ করা হয়নি। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস হলো রক্তপাত না হওয়া পর্যন্ত কোনো কিছু হয় না। আহত শিক্ষার্থীর সকল চিকিৎসা ব্যয় প্রশাসনকে বহন করতে হবে।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহকারী প্রক্টর ড. গাজী মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে সব দাবি-দাওয়া বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যত দ্রুত সম্ভব মেনে নেবে। আমরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বসে আলোচনা করব এবং কীভাবে দ্রুত সময়ের মধ্যে সমস্যাগুলোর সমাধান করা যায়, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এদিকে, শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পর বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়কে অবরোধ অব্যাহত থাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। এতে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে এবং দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকরা।
