জন্ম নিবন্ধন ২৫ কোটি, মৃত্যু ৫৮ লাখ—তাহলে জনসংখ্যা ১৮ কোটি হয় কীভাবে: প্রশ্ন মীর শাহে আলমের
নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের তথ্যের সঙ্গে জনসংখ্যার হিসাবের সামঞ্জস্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেছেন, দেশে এ পর্যন্ত প্রায় ২৫ কোটি জন্ম নিবন্ধন এবং ৫৮ লাখ মৃত্যু নিবন্ধন হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশের জনসংখ্যার সরকারি হিসাব ১৮ কোটি কীভাবে হয়—সে প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করা জরুরি।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলের গ্র্যান্ড বলরুমে জাতীয় জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান।
মীর শাহে আলম বলেন, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের তথ্য ব্যবস্থাপনায় বর্তমানে নানা ধরনের ভুল ও জটিলতা রয়েছে। এ কারণে দেশের প্রকৃত জনসংখ্যার সঠিক হিসাব পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। অথচ খাদ্যের চাহিদা নিরূপণ, পুষ্টি নিশ্চিত করা, শিশুদের টিকাদানসহ বিভিন্ন সরকারি কর্মসূচির সঠিক পরিকল্পনার জন্য নির্ভুল জনসংখ্যার তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, ‘জন্ম নিবন্ধন প্রায় ২৫ কোটি, মৃত্যু নিবন্ধন ৫৮ লাখ। তাহলে দেশের জনসংখ্যা ১৮ কোটি কীভাবে হয়—এটা আমাদের ভাবতে হবে। কোথায় ভুল হচ্ছে, কোথায় দ্বৈত বা ভুয়া তথ্য রয়েছে, সেটি চিহ্নিত করা জরুরি।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, জন্মনিবন্ধন সনদ একটি শিশুর আইনি পরিচিতি ও অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রথম ধাপ। এই সনদের মাধ্যমে জন্মতারিখ, জন্মস্থান, পিতৃত্ব, মাতৃত্ব ও জাতীয়তা প্রতিষ্ঠিত হয়। তাই জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের তথ্য নির্ভুল হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি জানান, নাগরিকদের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে তৃণমূল পর্যায়ে গ্রাম সরকার ব্যবস্থা পুনরুজ্জীবিত করার পরিকল্পনা করছে সরকার। এ ব্যবস্থার আওতায় ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন পরিষদ পর্যায়ে দায়িত্ব অর্পণ করে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন কার্যক্রম আরও কার্যকর করার চিন্তাভাবনা চলছে।
মীর শাহে আলম বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উদ্যোগের ওপর ভিত্তি করে গ্রাম সরকার ব্যবস্থা পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এজন্য ১৯৮০ ও ২০০৩ সালের গ্রাম সরকার সংক্রান্ত আইন সমন্বয় করে নতুন ও যুগোপযোগী ‘গ্রাম সরকার আইন’ প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের দায়িত্ব আরও কার্যকরভাবে দেওয়া হলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমবে। একই সঙ্গে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের ডেটাবেজে ভুয়া ও দ্বৈত এন্ট্রি ঠেকানো সহজ হবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, সরকার প্রতিটি নাগরিকের জন্য ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান আইডি’ বা একক ডিজিটাল আইডি এবং ডিজিটাল ওয়ালেট চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের প্রাথমিক তথ্যভান্ডার ‘বিডিআরআইএস’ও ঢেলে সাজানোর কাজ চলছে।
তিনি বলেন, বিডিআরআইএসে তথ্য ভুল থাকলে সরকারের ভবিষ্যৎ ডিজিটাল নাগরিকসেবা ব্যবস্থাও বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তাই জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের তথ্য যাচাই, সংশোধন ও সমন্বয়ের মাধ্যমে একটি নির্ভুল ডেটাবেজ তৈরি করা জরুরি।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসানের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) ফারাহ শাম্মী, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ডেলিগেশন ঢাকার হেড অব ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন ড. মিখাল ক্রেজা এবং ইউনিসেফ বাংলাদেশের প্রতিনিধি জিলিয়ান মেলসপসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
