ধানমন্ডি লেকের উন্নয়নে দুটি প্রকল্প, গড়ে উঠবে আধুনিক বিনোদনকেন্দ্র

ধানমন্ডি লেকের উন্নয়নে দুটি প্রকল্প, গড়ে উঠবে আধুনিক বিনোদনকেন্দ্র

নিজস্ব প্রতিবেদক

ধানমন্ডি লেকের সার্বিক উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনায় দুটি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে লেকের তলদেশের স্ল্যাশ উত্তোলন ও অপসারণের কাজ শুরু হয়েছে। বিস্তারিত নকশা অনুযায়ী লেকের উন্নয়নকাজ করা হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা-১০ আসনের সংসদ সদস্য এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ধানমন্ডির ৩/এ এলাকায় ‘ধানমন্ডি লেকের পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন’ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

শেখ রবিউল আলম বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ধানমন্ডি লেকে ক্যাফে, নতুন ওয়াকওয়ে এবং নাগরিকদের অবসর ও বিনোদনের জন্য বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা তৈরি করা হবে। একটি আধুনিক লেকে প্রয়োজনীয় যেসব সুবিধা থাকা দরকার, সেগুলো এখানে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে ধানমন্ডিবাসীর পাশাপাশি রাজধানীর অন্যান্য এলাকার মানুষেরও বিনোদনের সুযোগ বাড়বে।

তিনি বলেন, ধানমন্ডি লেকের উন্নয়ন তার নির্বাচনী অঙ্গীকারের অংশ ছিল। সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়ন হতে যাওয়ায় তিনি আনন্দিত। তবে লেকের উন্নয়নের পাশাপাশি এর পরিবেশ রক্ষায় নাগরিকদেরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেন, ধানমন্ডি লেকের উন্নয়ন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পনা থাকলেও কাজটি গুছিয়ে আনতে কিছুটা সময় লেগেছে। প্রথম ধাপে লেকের তলদেশের স্ল্যাশ পরিষ্কার করা হবে। এরপর পানি পরিষ্কার, সাইডওয়াল সংস্কার, বিদ্যমান ওয়াকওয়ে আধুনিক ও সম্প্রসারণ, গাছপালার সৌন্দর্যবর্ধন এবং লাইটিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে।

শিশুদের জন্য লেকে স্পিডবোটের সুযোগ রাখার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। তবে লেকটি যাতে বারবার দূষিত না হয়, সে জন্য স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতা ও সচেতনতা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর দাবি, বর্তমানে লেকের পানি মাছ মারা যাওয়ার মতো মাত্রায় দূষিত নয় এবং লেকে মাছ রয়েছে।

আবদুস সালাম বলেন, ধানমন্ডি লেককে কেন্দ্র করে পুরো ধানমন্ডি এলাকা সাজানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য রাস্তা, ফুটপাত ও লাইটিংসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার উন্নয়ন করা হবে।

পাশাপাশি ‘নজরুল মঞ্চ’ নামে একটি সাংস্কৃতিক মঞ্চ নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে। সেখানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের পাশাপাশি লাইব্রেরি, ক্যাফে ও পড়াশোনার ব্যবস্থা থাকবে। রবীন্দ্র সরোবরের আদলে এটিকে ঢাকাবাসীর জন্য একটি উন্মুক্ত সাংস্কৃতিক ও বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক জানান, মঙ্গলবার থেকেই ধানমন্ডি লেকের উন্নয়নকাজ শুরু করা হচ্ছে। এ কাজে ধানমন্ডিবাসী, এলাকার বাসিন্দা ও সাংবাদিকদের সহযোগিতা প্রয়োজন। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ এখানে আসেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, সবার জন্য সুন্দর ও স্বাচ্ছন্দ্যময় পরিবেশ তৈরি করাই উন্নয়নকাজের অন্যতম লক্ষ্য।

rumaakter144e@gmail.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *