বৈদ্যুতিক লাইনের সমস্যা সমাধানে দিতে হচ্ছে বাড়তি অর্থ, নেপথ্যে লাইনম্যান
ফরিদগঞ্জ প্রতিনিধি
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার ধানুয়া গ্রামে বৈদ্যুতিক লাইন মেরামতকে কেন্দ্র করে বাড়তি অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে পল্লী বিদ্যুতের লাইনম্যান মমিন হোসেনের বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন, যেকোনো ছোটখাটো সমস্যা সমাধানেই লাইনম্যানের কাছে ‘চাহিদামতো টাকা’ না দিলে পাওয়া যাচ্ছে না প্রয়োজনীয় সেবা।
১০ হাজার টাকা দাবি, পরে ৭ হাজারে সমাধান
ধানুয়া গ্রামে সম্প্রতি রাস্তার পাশে গাছ কাটার সময় একটি বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে যায়। স্থানীয়রা বিষয়টি ফরিদগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে জানালে লাইনম্যান মমিন হোসেন ঘটনাস্থলে যান। সেখানে গিয়ে লাইন সংযোগ দেওয়ার জন্য ধানুয়া গ্রামের বাসিন্দা ও বাজারের ব্যবসায়ী ইয়াসিন খাঁনের কাছে তিনি ১০ হাজার টাকা দাবি করেন।
ইয়াসিন খাঁন টাকা দিতে না পারায় মমিন হোসেন লাইনটি সংযোগ না দিয়েই ফিরে যান। পরে ইয়াসিন জেলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে পরের দিন সকালে একই লাইনম্যান ঘটনাস্থলে এসে ৭ হাজার টাকার বিনিময়ে লাইনটি পুনঃসংযোগ করে দেন।
আগেও টাকা নিয়েছিলেন—অভিযোগ ইয়াসিনের
ইয়াসিন খাঁন অভিযোগ করেন, কয়েক দিন আগে ধানুয়া বাজারে তাঁর তিনটি দোকানের একটির বৈদ্যুতিক তারে সমস্যা দেখা দিলে তিনি অভিযোগ করেন। তখনও মমিন হোসেন গিয়ে তাঁর কাছ থেকে ৪ হাজার টাকা নেন।
একই গ্রামের বাসিন্দা ফারুক হোসেন ও মোহাম্মদ আলী রমজান বলেন, ‘যেকোনো সমস্যায় অভিযোগ করলে বিভিন্ন সময় লাইনম্যান মমিনকে অতিরিক্ত টাকা দিতে হয়। না দিলে কাজ হয় না।’ এ নিয়ে এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
ঘটনার পর ইয়াসিন খাঁন চাঁদপুর জেলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজারের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী মো. রাশেদুজ্জামান বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে জেনেছি। তদন্তের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
অভিযোগ অস্বীকার লাইনম্যান মমিনের
এ বিষয়ে লাইনম্যান মমিন হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন।
