মাদারগঞ্জে ভূমি অফিসে দালালের দৌরাত্ম্যটাকা ছাড়া মেলে না ভূমি সেবা

মাদারগঞ্জে ভূমি অফিসে দালালের দৌরাত্ম্যটাকা ছাড়া মেলে না ভূমি সেবা

জামালপুর প্রতিনিধি

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার ইউনিয়ন ভূমি অফিসে দালালদের দৌরাত্ম্য দিন দিন বেড়েই চলেছে। কর্মকর্তা–কর্মচারীদের যোগসাজশে টাকা ছাড়া কোনো ভূমি সেবা পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন সেবাপ্রার্থীরা। ভুয়া নামজারি, খারিজে অনিয়ম ও দালালচক্রের দাপটে অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ।

কড়ইচড়া ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা মো. হানিফ উদ্দিনের বিরুদ্ধে টাকার বিনিময়ে খারিজ করার অভিযোগ তুলেছেন একাধিক ভুক্তভোগী। অভিযোগ রয়েছে, টাকা ছাড়া ফাইল নড়াচড়াই হয় না। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী মো. শাহিন মিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর লিখিত অভিযোগও জমা দিয়েছেন।

ভুয়া নামজারিতে জমি হাতছাড়া

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ভুয়া নামজারি এতটাই সহজ হয়ে গেছে যে একজনের জমি অন্যজনের নামে নামজারি হয়ে যাচ্ছে। এতে প্রকৃত জমির মালিক ভোগান্তিতে পড়ছেন, হচ্ছেন হয়রানির শিকার।

চরগুজামানিকা মৌজার বাসিন্দা মো. ছামিউল ইসলাম জানান, তিনি তাঁর পৈত্রিক সম্পত্তির ৯ শতক জমি খারিজ করতে গেলে জানতে পারেন, তাঁর জমি ইতোমধ্যেই অন্যজনের নামে খারিজ হয়ে গেছে। মৃত আব্দুর রহমান মাস্টারের ছেলে রবিউল ইসলাম, মেয়ে লুৎফুন নেছা ও বিউটি বেগমের নামে ওই নামজারি করা হয়।

এ ঘটনায় ভুয়া নামজারি বাতিলের দাবি জানিয়ে রেজাউল করিম, রফিকুল ইসলাম, দেলোয়ার হোসেন, ছামিউল ইসলাম ও ফজলুল হক ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তার কাছে আবেদন জমা দিয়েছেন।

অফিসে দালালের আধিপত্য

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা মো. হানিফ উদ্দিনের পাশেই বসে কম্পিউটারে কাজ করছেন মহিষবাথান এলাকার সজিব মিয়া নামের এক যুবক। তিনি অফিসের কোনো স্টাফ নন। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই সজিবের মাধ্যমেই দালালদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা লেনদেন করেন ভূমি কর্মকর্তা। পুরো অফিস যেন ‘ঘুষের রাজত্বে’ পরিণত হয়েছে।

‘টাকা দিলে খারিজ ভাঙবে’

ভুক্তভোগী হাবিবুর রহমান বলেন, ‘নায়েব সাহেব আমাদের বাড়িতে আসছিলেন। আমাদের জমি মমিনুন্নেছা আর রবিউলের নামে খারিজ করে দিছে। বলে সংশোধন করবে, কিন্তু করছে না। এখন নায়েব টাকা চায়। টাকা দিলে খারিজ ভাঙবে।’

ভুক্তভোগী শাহিন মিয়া বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ঘুরছি। ভূমি কর্মকর্তা আমার সঙ্গে খারাপ আচরণ করেছেন। এসিল্যান্ড অফিসে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি, কিন্তু কোনো প্রতিকার পাইনি।’

কর্মকর্তার বক্তব্য

এ বিষয়ে ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা মো. হানিফ উদ্দিন।

মাদারগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাসেল দিও বলেন, ‘অভিযোগের বিষয়টি আমার জানা নেই। তাদেরকে আমার কাছে পাঠিয়ে দিন। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’

BD Short News 24

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *