রাজশাহীতে বিপদসীমার কাছাকাছি পদ্মার পানি, প্লাবিত চরাঞ্চল

রাজশাহীতে বিপদসীমার কাছাকাছি পদ্মার পানি, প্লাবিত চরাঞ্চল

রাজশাহী প্রতিনিধি

রাজশাহীতে পদ্মা নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টায় পদ্মার পানির উচ্চতা ১৭ দশমিক ২২ মিটার রেকর্ড করা হয়েছে। বিপদসীমা ১৮ দশমিক ০৫ মিটার হওয়ায় বর্তমানে বিপদসীমার শূন্য দশমিক ৮৩ মিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।

পদ্মার পানি বাড়তে থাকায় নদীর দক্ষিণে ভারত সীমান্তঘেঁষা চরখিদিরপুর, খানপুরসহ বিভিন্ন চরাঞ্চলে পানি ঢুকতে শুরু করেছে। এরই মধ্যে এসব এলাকার বেশ কিছু অংশ প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন অনেক পরিবার।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুর রহমান অঙ্কুর জানান, পদ্মার পানি বাড়লেও এখনো শহর রক্ষা বাঁধ নিয়ে কোনো ঝুঁকি তৈরি হয়নি। তবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রেখে পানি উন্নয়ন বোর্ড সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ঝুঁকি দেখা দিলে তাৎক্ষণিক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি জানান, শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টায় পদ্মার পানির উচ্চতা ছিল ১৭ দশমিক ১৯ মিটার। শনিবার সকাল ৯টায় তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭ দশমিক ২২ মিটারে। অর্থাৎ ১৫ ঘণ্টায় পানি বেড়েছে ৩ সেন্টিমিটার।

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে গত প্রায় ১০ দিন ধরে পদ্মায় পানি বাড়ছে। শুক্রবার দুপুর ১২টায় পানির উচ্চতা ছিল ১৭ দশমিক ০৫ মিটার। তিন ঘণ্টা পর বেলা ৩টায় তা বেড়ে ১৭ দশমিক ১২ মিটারে পৌঁছায়। ওই সময়ে তিন ঘণ্টায় পানি বেড়েছিল ৭ সেন্টিমিটার।

এদিকে পানি বাড়ায় রাজশাহী শহরের বিপরীতে পদ্মার ওপারে চরখিদিরপুর ও খানপুর এলাকার বেশির ভাগ অংশ তলিয়ে গেছে। পানিবন্দি হয়ে পড়া পরিবারগুলো খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে পড়েছে।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পানিবন্দি মানুষের মধ্যে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহসহ বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি পরিস্থিতি বিবেচনায় পানিবন্দি মানুষদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুর্গত এলাকায় ত্রাণ বিতরণের পাশাপাশি মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনা করা হচ্ছে। পদ্মার পানি আরও বাড়লে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে নদীতীরবর্তী চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

rumaakter144e@gmail.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *