হরমুজে নৌ চলাচলের করিডর গঠনে ওমানের সঙ্গে চুক্তি ইরানের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
কৌশলগত আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের জন্য নিরাপদ নৌ-করিডর গঠনে ওমানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছেছে ইরান। প্রণালিতে প্রবেশ ও বের হওয়ার জন্য নির্ধারিত নিরাপদ পথ তৈরি এবং এ বিষয়ে সমন্বয় জোরদারের লক্ষ্যেই দুই দেশ এ চুক্তিতে পৌঁছেছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) তেহরানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়েই।
তিনি বলেন, নিরাপদ নৌ-চলাচলের করিডরগুলোর রুট চূড়ান্ত হওয়ার পর আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক জাহাজ চলাচল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সংস্থাগুলোকে এসব পথ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।
ইরানি মুখপাত্র জানান, হরমুজ প্রণালিতে নৌ-চলাচলের স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতে ইরান ও ওমানের মধ্যে যে পর্যায়ক্রমিক কাঠামো নিয়ে কাজ চলছে, তার ভিত্তিতেই নতুন এই সমঝোতা হয়েছে।
এর আগে গত আগস্টে হরমুজে একটি অস্থায়ী নৌ-চলাচলের পথ তৈরির বিষয়ে দুই দেশ সম্মত হয়েছিল। একই সঙ্গে মাইন অপসারণ, জাহাজ চলাচল ব্যবস্থাপনা, তথ্য আদান-প্রদান এবং পরবর্তী সময়ে একটি স্থায়ী নৌপথ তৈরির বিষয়েও কাজ করার সিদ্ধান্ত হয়।
তবে নতুন এই সমঝোতার অর্থ হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি খুলে দেওয়া হয়েছে—এমন নয়। বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য অবাধ ও শর্তহীন চলাচলের নিশ্চয়তাও এতে দেওয়া হয়নি। ইরান দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত প্রণালী পুরোপুরি খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না।
গত ২৫ আগস্ট ওমান জানিয়েছিল, হরমুজে একটি যৌথ অস্থায়ী নৌ-চলাচল ব্যবস্থার কাঠামো নিয়ে তেহরানের সঙ্গে সমঝোতা হয়েছে। ওই কাঠামোর আওতায় স্থায়ী নৌপথ তৈরি, জাহাজ চলাচল ব্যবস্থাপনা এবং তথ্য বিনিময়ের বিষয়ে কারিগরি আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
পরদিন ২৬ আগস্ট ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি জানিয়েছিলেন, প্রস্তাবিত অস্থায়ী নৌপথটি প্রায় সাত মাইল প্রশস্ত হবে। এর প্রবেশ ও বহির্গমনপথের একটি অংশ ইরানের আঞ্চলিক জলসীমার মধ্য দিয়ে যাবে বলেও জানিয়েছিলেন তিনি। তবে এটিকে হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি খুলে দেওয়ার পদক্ষেপ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে তখন স্পষ্ট করেন তিনি।
এদিকে হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতি নিয়ে ইরানের অভিজাত সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) পক্ষ থেকেও সতর্কবার্তা এসেছে।
বুধবার আইআরজিসির সর্বাধিনায়কের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ রেজা নাকদি দাবি করেন, তেহরানের দৃষ্টিতে অবৈধ হিসেবে বিবেচিত হরমুজের কয়েকটি নৌপথ শিগগিরই বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে।
তিনি ওমানের উপকূল ঘেঁষে থাকা একটি বিকল্প দক্ষিণ নৌপথের কথাও উল্লেখ করেন। এর আগে ইরানের আধা-সরকারি ফার্স নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া বক্তব্যে নাকদি দাবি করেছিলেন, হরমুজের পাথুরে কিছু এলাকায় বিস্ফোরণ ঘটিয়ে কয়েকটি নৌপথ তৈরি করা হয়েছে। এসব পথ ছোট নৌযানে তেল পাচার এবং পরে তা ট্যাংকারে স্থানান্তরের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
নাকদি আরও বলেন, ইরানের ভূ-রাজনৈতিক দাবিগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালীর ওপর আইআরজিসির নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকবে এবং প্রণালী বন্ধ অবস্থায় থাকবে।
ফলে একদিকে ইরান ও ওমান নিরাপদ নৌ-চলাচলের করিডর তৈরিতে সমঝোতায় পৌঁছালেও অন্যদিকে হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি উন্মুক্ত হওয়ার বিষয়টি এখনও অনিশ্চিত রয়েছে।
সূত্র: এএফপি, গালফ নিউজ
