রুয়েটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিয়ে প্রতিযোগিতা: ‘টিম এভারফ্রেশ’ চ্যাম্পিয়ন
রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রুয়েট) টেকসই জ্বালানি, নবায়নযোগ্য শক্তির সম্ভাবনা ও শিল্পখাতে সবুজ রূপান্তর নিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে একটি সেমিনার ও প্রতিযোগিতা। ‘পিএসআরইএফ ইন্ডাস্ট্রিয়াল এনার্জি চ্যালেঞ্জ: ডিজাইনিং আ গ্রিন ট্রানজিশন’ শীর্ষক এ আয়োজন যৌথভাবে করেছে রুয়েটের ইনস্টিটিউট অব এনার্জি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট স্টাডিজ (আইইইএস) এবং সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের ২১৭ নম্বর কক্ষে এ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয়।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রুয়েট উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস. এম. আবদুর রাজ্জাক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইইইএস-এর পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. নুরুল ইসলাম, আইকিউএসি’র অতিরিক্ত পরিচালক ড. মো. মাহমুদ শাহজাদ, ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. রবিউল ইসলাম সরকার এবং পুরকৌশল অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. কামরুজ্জামানসহ সিপিডির ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিরা।
উদ্বোধনী বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মো. নুরুল ইসলাম বলেন, উচ্চ ব্যয়ের কারণে সৌরশক্তির ব্যবহার এখনো সীমিত হলেও বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের বাস্তবতায় এটি এখন আর বিকল্প নয়, বরং অপরিহার্য সমাধান। তিনি সৌরশক্তিকে মূলধারার জ্বালানি হিসেবে প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দেন।
ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. রবিউল ইসলাম সরকার বলেন, টেকসই উন্নয়নের জন্য নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিষয়ে জ্ঞান অর্জন জরুরি। গবেষণা ও বিনিয়োগ বাড়লে বাংলাদেশে এ খাতে অগ্রগতি সম্ভব।
তিনি আরও জানান, ক্যাম্পাসে সবুজ শক্তির ব্যবহার বাড়াতে হলের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
সেমিনারের অংশ হিসেবে আয়োজিত প্রতিযোগিতায় টেকসই ও সবুজ জ্বালানি নিয়ে কেস স্টাডি ও উদ্ভাবনী পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়। মোট ৩৩টি দল অংশ নেয়। প্রাথমিক বাছাই শেষে ২৬টি দল এবং চূড়ান্ত পর্বে ১০টি দল উপস্থাপনার সুযোগ পায়। এতে রুয়েট, বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় ও আহসানিয়া মিশনের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
বিচারকদের মূল্যায়নের ভিত্তিতে চূড়ান্ত পর্বে রুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের ‘টিম এভারফ্রেশ’ চ্যাম্পিয়ন হয়। প্রথম রানারআপ হয় রুয়েটের ইইই বিভাগের ‘টিম অপচয় জিরো’ এবং দ্বিতীয় রানারআপ হয় বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘টিম গ্রিনারি গ্রিড’।
সমাপনী বক্তব্যে প্রধান অতিথি অধ্যাপক ড. এস. এম. আবদুর রাজ্জাক বলেন, উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে জ্বালানি খাতে গবেষণা, দক্ষতা ও উদ্ভাবন বাড়াতে হবে। তিনি প্রযুক্তিনির্ভর টেকসই সমাধানের দিকে এগোনোর আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠান শেষে বিজয়ীদের হাতে ‘PSREF Innovator Award’ তুলে দেওয়া হয় এবং সেমিনারের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। আয়োজকদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ তরুণদের মধ্যে জ্বালানি সচেতনতা বৃদ্ধি ও সবুজ অর্থনীতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
