যে সমালোচনার পর নিজেকে বদলে ফেলেন অশ্বিন
স্পোর্টস ডেস্ক
স্পষ্টভাষী হিসেবে পরিচিত সাবেক ভারতীয় ক্রিকেটার ও বর্তমান ধারাভাষ্যকার সঞ্জয় মাঞ্জরেকার। ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স নিয়ে তাঁর সরাসরি মন্তব্য অনেক সময় বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এমনই এক সমালোচনায় একসময় ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন ভারতের সাবেক তারকা রবিচন্দ্রন অশ্বিন। এমনকি কয়েক বছর মাঞ্জরেকারের সঙ্গে কথাও বলেননি তিনি। তবে সেই সমালোচনাই পরবর্তী সময়ে অশ্বিনের ক্যারিয়ারে ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছিল বলে জানিয়েছেন তিনি।
২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় নেওয়া অশ্বিন জানান, অস্ট্রেলিয়ায় নিজের প্রথম সফর শেষে দেশে ফেরার সময় মাঞ্জরেকারের লেখা একটি নিবন্ধ তাঁর চোখে পড়ে। সেখানে অশ্বিনের ফিটনেস নিয়ে সমালোচনা করেছিলেন মাঞ্জরেকার। বিষয়টি তাঁকে বেশ কষ্ট দিয়েছিল।
জিওহটস্টারে অশ্বিন বলেন, ‘আমি একবার সঞ্জয় মাঞ্জরেকারকে মেসেজ করেছিলাম। অস্ট্রেলিয়ায় আমার প্রথম সফরের পর তিনি একটি দীর্ঘ নিবন্ধ লিখেছিলেন। ফেরার পথে আমি পুরো নিবন্ধটি পড়েছিলাম। পড়ে রেগে যাই। রেগে যাওয়া এক বিষয়, কিন্তু আমার খুব খারাপও লেগেছিল। এরপর বিষয়টি ছেড়ে দিয়েছিলাম। এমনিতেও আমি তাঁর সঙ্গে খুব বেশি কথা বলতাম না।’
তবে সমালোচনায় থেমে না গিয়ে নিজেকে বদলানোর চেষ্টা করেন অশ্বিন। তিনি বলেন, পরবর্তী চার বছর কঠোর পরিশ্রম করেছেন, কারণ জন্মগতভাবে তিনি প্রতিভাবান অ্যাথলেট ছিলেন না।
এরপর ২০১৫ সালে মাঞ্জরেকার আরেকটি নিবন্ধ লেখেন। সেখানে অশ্বিনের বোলিংয়ের প্রশংসা করা হয়। তখন মাঞ্জরেকারের নম্বর নিয়ে তাঁকে বার্তা পাঠান অশ্বিন।
অশ্বিন বলেন, ‘আমি তাঁকে বলি—আপনার সেই সময়ের নিবন্ধটি আমার জীবন বদলে দিয়েছিল। সমালোচনা থেকে শেখার মতো কিছু আছে কি না, আমি সবসময় সেটাই দেখি।’
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেন অশ্বিন। ভারতের হয়ে টেস্ট ক্রিকেটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এই অফস্পিনার ১০৬ টেস্টে ২৪ গড়ে ৫৩৭ উইকেট নিয়েছেন। ওয়ানডেতে ১১৬ ম্যাচে তাঁর শিকার ১৫৬ উইকেট। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ৬৫ ম্যাচ খেলে নিয়েছেন ৭২ উইকেট।
ব্যাট হাতেও সফল ছিলেন অশ্বিন। টেস্ট ক্যারিয়ারে তাঁর সংগ্রহ ৩ হাজার ৫০৩ রান। এর মধ্যে রয়েছে ছয়টি সেঞ্চুরি ও ১৪টি হাফসেঞ্চুরি।
অশ্বিনের বক্তব্যে স্পষ্ট, কঠিন সমালোচনাকে ব্যক্তিগত অপমান হিসেবে না নিয়ে তা থেকে নিজের দুর্বলতা খুঁজে বের করার চেষ্টা করাই শেষ পর্যন্ত তাঁকে আরও ভালো ক্রিকেটার হতে সাহায্য করেছিল।
