উপজেলা নির্বাচনে পোস্টার-মিছিল নিষিদ্ধ, প্রার্থিতা বাতিলের সুযোগ

উপজেলা নির্বাচনে পোস্টার-মিছিল নিষিদ্ধ, প্রার্থিতা বাতিলের সুযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে পোস্টার ব্যবহার, প্রকাশ্য মিছিল ও শোভাযাত্রাসহ বেশ কিছু প্রচারণামূলক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিলও হতে পারে।

উপজেলা পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে সম্প্রতি উপজেলা পরিষদ নির্বাচন আচরণ বিধিমালা-২০২৬ জারি করেছে ইসি। নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদের সই করা বিধিমালাটি গত বৃহস্পতিবার গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়।

নতুন বিধিমালায় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী ও তাঁদের সমর্থকদের প্রচারণার ধরন, ব্যয় এবং বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। একই ধরনের আচরণবিধি ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদ নির্বাচনের ক্ষেত্রেও জারি করা হয়েছে।

পোস্টার ও মিছিল নিষিদ্ধ

নতুন আচরণবিধির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলো নির্বাচনী প্রচারে পোস্টার নিষিদ্ধ করা। কোনো প্রার্থী বা তাঁর পক্ষে অন্য কেউ প্রচারণায় পোস্টার ব্যবহার করতে পারবেন না।

এ ছাড়া ভবন, দেয়াল, গাছ, বেড়া, বিদ্যুতের খুঁটি, সরকারি স্থাপনা, সেতু ও কালভার্টসহ বিভিন্ন স্থানে প্রচারসামগ্রী ব্যবহারের ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ রাখা হয়েছে।

তফসিল ঘোষণার পর থেকে নির্বাচনের ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত প্রকাশ্য মিছিল বা শোভাযাত্রা করা যাবে না। ট্রাক, বাস, মোটরসাইকেল, নৌযান ও ট্রেনসহ বিভিন্ন যানবাহন ব্যবহার করেও মিছিল বা শোভাযাত্রা করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

নির্বাচনী প্রচারে হেলিকপ্টার বা অন্য কোনো আকাশযান ব্যবহারের ওপরও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারে শর্ত

নতুন বিধিমালায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রচারের সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে প্রচারণা শুরুর আগে কোন কোন মাধ্যম ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তাকে তথ্য দিতে হবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণায় ব্যয় হওয়া অর্থও প্রার্থীর নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাবের অন্তর্ভুক্ত হবে।

ডিজিটাল প্রচারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) অপব্যবহার ঠেকাতেও বিধান রাখা হয়েছে। মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর, বিদ্বেষপূর্ণ বা ব্যক্তিগত আক্রমণমূলক বক্তব্য প্রচার করা যাবে না। নির্বাচনী পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে—এমন কনটেন্ট তৈরি বা প্রচারও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

অর্থ, উপহার ও সরকারি সুবিধা ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা

ভোটারদের প্রভাবিত করতে অর্থ, খাদ্য, পানীয় বা উপহার দেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ধর্মীয় উপাসনালয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি অফিসেও নির্বাচনী প্রচারণা চালানো যাবে না।

ধর্মের অপব্যবহার, পেশিশক্তির ব্যবহার এবং প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর বিরুদ্ধে কুৎসা বা ব্যক্তিগত চরিত্রহননমূলক প্রচারণাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

সরকারি যানবাহন, প্রচারযন্ত্র বা অন্য কোনো সরকারি সম্পদ ব্যবহার করে নির্বাচনী প্রচার চালানো যাবে না। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ রাখা হয়েছে।

নির্বাচনের দিন ভোটারদের কেন্দ্রে আনা-নেওয়ার জন্য যানবাহন ভাড়া বা ব্যবহারের সুযোগও থাকবে না। নির্বাচনী প্রচারণায় ক্যাম্প স্থাপন ও মাইক ব্যবহারের ক্ষেত্রেও নির্ধারিত নিয়ম মানতে হবে।

প্রার্থিতা বাতিলের সুযোগ

নতুন বিধিমালায় নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা আরও জোরদার করা হয়েছে। কোনো প্রার্থী বা তাঁর নির্বাচনী এজেন্ট আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন বা লঙ্ঘনের চেষ্টা করেছেন বলে কমিশনের কাছে প্রতীয়মান হলে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।

অভিযোগ প্রমাণিত হলে গুরুতর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করতে পারবে ইসি।

এ ছাড়া নির্বাচনী ব্যয়সীমা অতিক্রম করা, অর্থ বা পেশিশক্তি ব্যবহার করে ভোটারদের প্রভাবিত করা এবং সরকারি সুবিধা ব্যবহার করে প্রচারণা চালানোকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। আচরণবিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

rumaakter144e@gmail.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *