কঙ্গোতে ইবোলায় মৃত্যু ৮৫ ছাড়াল, জরুরি অবস্থা জারি

কঙ্গোতে ইবোলায় মৃত্যু ৮৫ ছাড়াল, জরুরি অবস্থা জারি

ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর (ডিআরসি) উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি প্রদেশে একটি নতুন ও বিরল স্ট্রেনের ইবোলা ভাইরাসের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাওয়ায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) একে ‘আন্তর্জাতিক উদ্বেগের জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা’ হিসেবে ঘোষণা করেছে।

রবিবার (১৭ মে) কঙ্গোর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, ডব্লিউএইচও এবং আফ্রিকা সিডিসি-এর দেওয়া সর্বশেষ তথ্যের বরাতে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো এই খবর নিশ্চিত করেছে।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ইতুরির বুনিয়া, রুয়ামপারা এবং মংবালু নামের তিনটি স্বাস্থ্য জোনে এখন পর্যন্ত ৩৩৬টি সম্ভাব্য কেস শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ল্যাবরেটরিতে নিশ্চিত হওয়া গেছে ৮ জনের শরীরে ইবোলার উপস্থিতি। এই প্রাদুর্ভাবে এখন পর্যন্ত অন্তত ৮৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

ইতুরির রাজধানী বুনিয়ার বাসিন্দা জিন মার্ক আসিমওয়ে স্থানীয় গণমাধ্যমকে বলেন, ‘গত এক সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন মানুষ মারা যাচ্ছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, দিনে দুই-তিনটি বা তারও বেশি মরদেহ দাফন করতে হচ্ছে আমাদের।’

সীমান্ত পেরিয়ে উগান্ডা ও কঙ্গোর রাজধানীতে ছড়ানোর উদ্বেগ

আফ্রিকা সিডিসি জানিয়েছে, আক্রান্ত এলাকাগুলোর সঙ্গে প্রতিবেশী দেশের ব্যাপক বাণিজ্যিক ও জনসংযোগ থাকায় রোগটি সীমান্ত পার হতে শুরু করেছে। কঙ্গো থেকে গণপরিবহন ব্যবহার করে উগান্ডায় আসা এক ব্যক্তির শরীরে ইবোলা শনাক্তের পর কাম্পালায় তার মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও কঙ্গোর রাজধানী কিনশাসাতেও ইতুরি প্রদেশ থেকে ফেরত আসা এক ব্যক্তির শরীরে ল্যাব-টেস্টে ইবোলা ধরা পড়েছে। ফলে রোগটি শহরাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ার তীব্র ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

টিকা ও চিকিৎসা নিয়ে বড় চ্যালেঞ্জ

এবারের প্রাদুর্ভাবটি ইবোলার চেনা ‘জায়ারে’ স্ট্রেন নয়, বরং এটি অপেক্ষাকৃত বিরল ‘বুন্দিবুগিও’ স্ট্রেন দ্বারা ছড়াচ্ছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের জন্য সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, বাজারে বর্তমানে ইবোলার যেসব অনুমোদিত বা কার্যকর ভ্যাকসিন (যেমন এরভেবো) রয়েছে, সেগুলো মূলত জায়ারে স্ট্রেনের জন্য তৈরি। বুন্দিবুগিও স্ট্রেনের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট কোনো অনুমোদিত ভ্যাকসিন বা থেরাপি এখনো হাতে নেই।

উদ্ধার ও প্রতিরোধ কার্যক্রমে বড় বাধা

কঙ্গো সরকারের পক্ষ থেকে আপদকালীন জরুরি সাড়াদান ব্যবস্থা চালু করা হলেও ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি মাঠপর্যায়ের কাজকে কঠিন করে তুলছে। আক্রান্ত মংবালু অঞ্চলটি মূলত একটি খনি এলাকা, যেখানে প্রতিনিয়ত মানুষের যাতায়াত থাকে। এছাড়া ওই অঞ্চলে সক্রিয় সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর কারণে চিকিৎসাকর্মীদের নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তুদের স্থানচ্যুতি কন্টাক্ট ট্রেসিংয়ের (আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসাদের খুঁজে বের করা) কাজকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, ইতিমধ্যেই আক্রান্ত এলাকাগুলোতে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ, ল্যাবরেটরি টেস্টের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নিরাপদ দাফন প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে ৫ মেট্রিক টন জরুরি চিকিৎসাসামগ্রী পাঠানো হয়েছে। তবে দ্রুত আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সমন্বয় নিশ্চিত করা না গেলে এই সংক্রমণ আরও বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

BD Short News 24

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *