চীনের সঙ্গে বিশ্বকাপ সম্প্রচার চুক্তি ফিফার, অনিশ্চয়তায় ভারত

চীনের সঙ্গে বিশ্বকাপ সম্প্রচার চুক্তি ফিফার, অনিশ্চয়তায় ভারত

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ সামনে রেখে চীনে সম্প্রচারস্বত্ব নিয়ে জটিলতার অবসান হয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার কাঠামোর অংশ চায়না মিডিয়া গ্রুপের (সিএমজি) সঙ্গে ফিফার সম্প্রচার চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় গণমাধ্যম। টুর্নামেন্ট শুরুর এক মাসেরও কম সময় আগে আজ শুক্রবার (১৫ মে) এই চুক্তি হয়েছে বলে রয়টার্সও নিশ্চিত করেছে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইয়াংতসি ইভেনিং পোস্ট জানিয়েছে, চুক্তির আর্থিক মূল্য কিংবা এটি ২০২৬ ও ২০৩০—দুই বিশ্বকাপের জন্য কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। এর আগে ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপেও সম্প্রচারস্বত্ব পেয়েছিল চীনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সিসিটিভি। ইতিমধ্যে টুর্নামেন্ট ঘিরে প্রচারণামূলক কনটেন্ট ও পৃষ্ঠপোষকদের বিজ্ঞাপন প্রচার শুরু হয়েছে। তবে এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি সিসিটিভি।

চলতি মাসের শুরুতে ফিফা জানিয়েছিল, বিশ্বের ১৭৫টি অঞ্চলে বিশ্বকাপ সম্প্রচার চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। তবে চীন ও ভারতে সম্প্রচারস্বত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গিয়েছিল। এর মধ্যেই ফিফার সেক্রেটারি জেনারেল মাতিয়াস গ্রাফস্ট্রম বেইজিং সফর করেন এবং চাইনিজ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সং কাইয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন। তখন থেকেই সিএমজির সঙ্গে ফিফার আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে বলে গুঞ্জন ছিল।

রয়টার্সের এক সূত্র জানিয়েছে, চীনে মোবাইল স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম মিগুকে ২০২৬ বিশ্বকাপ সম্প্রচারের বণ্টন চুক্তি সম্পন্ন করতে নির্দেশ দেয় সিসিটিভি কর্তৃপক্ষ। তবে ফিফা ও সিসিটিভির মধ্যে কী পরিমাণ অর্থে চুক্তি হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মিগুও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

২০১৮ বিশ্বকাপে সিসিটিভি মিগু ও আলিবাবার মালিকানাধীন ইউকুকে সাব-লাইসেন্স দিয়েছিল। সেটিই ছিল অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোর সঙ্গে প্রথমবারের মতো লাইভ ডিজিটাল সম্প্রচারস্বত্ব ভাগাভাগি। পরে কাতার বিশ্বকাপ ২০২২–এ সিএমজি মিগু, ডুইন এবং কয়েকটি আঞ্চলিক টিভি স্টেশনের কাছেও সম্প্রচার বিতরণ সম্প্রসারণ করে।

চীনে সম্প্রচার অনিশ্চয়তা কেটে গেলেও ভারতীয় দর্শকদের অপেক্ষা এখনো শেষ হয়নি। দ্য অ্যাথলেটিকে-র এক প্রতিবেদনে বলা হয়, কাতারের সময়সূচির সুবিধার কারণে ২০২২ বিশ্বকাপের সম্প্রচারস্বত্ব কিনতে ভারতীয় গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান ভায়াকম১৮ প্রায় ৬ কোটি ডলার ব্যয় করেছিল। ম্যাচগুলো তাদের জিওসিনেমা প্ল্যাটফর্মে বিনা মূল্যে দেখানো হয়।

ভারতের ক্রীড়া ব্যবসাবিষয়ক ওয়েবসাইট স্টেট অব প্লে–র তথ্যমতে, বিশ্বকাপ শুরুর সময় জিওসিনেমার মাসিক ইউনিক ভিজিটর ছিল ৩০ লাখের কম। ফাইনালের সময় তা বেড়ে প্রায় ২ কোটি ৩০ লাখে পৌঁছে যায়।

তবে বিপুল দর্শক টানলেও আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারেনি ভায়াকম১৮। বিজ্ঞাপন থেকে প্রতিষ্ঠানটি আয় করে আনুমানিক ৩ কোটি ডলার, যা সম্প্রচারস্বত্ব কেনার খরচের তুলনায় অনেক কম। ভারতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোর আয় মূলত বিজ্ঞাপননির্ভর, সাবস্ক্রিপশন থেকে আয় তুলনামূলক কম। জিওসিনেমার বার্ষিক সাবস্ক্রিপশন ফিও মাত্র ১৪ ডলার। ফলে সুবিধাজনক সময়সূচিতে সম্প্রচার হওয়া সত্ত্বেও কাতার বিশ্বকাপ থেকে পর্যাপ্ত আয় আসেনি। আর সেখানেই ২০২৬ বিশ্বকাপের সম্প্রচারস্বত্ব বিক্রিতে নতুন করে চ্যালেঞ্জে পড়েছে ফিফা।

BD Short News 24

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *