পবিত্র মক্কা প্রসঙ্গে ট্রাম্পের বক্তব্যে ফুঁসে উঠল ইয়েমেন

পবিত্র মক্কা প্রসঙ্গে ট্রাম্পের বক্তব্যে ফুঁসে উঠল ইয়েমেন

ইয়েমেনের রাজধানী সানায় লাখ লাখ মানুষের অংশগ্রহণে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পবিত্র মক্কা নগরী সম্পর্কে করা অবমাননাকর মন্তব্যের নিন্দা জানিয়েছেন।

এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয় ট্রাম্পের প্রকাশিত একটি ছবি ও মন্তব্য ঘিরে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার পর। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই ছবি ও বক্তব্য ছড়িয়ে পড়লে ব্যবহারকারীদের মধ্যে সমালোচনার ঝড় ওঠে এবং মক্কা ও ইসলাম সম্পর্কে তার মন্তব্যে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়।

ট্রাম্প একটি ছবি প্রকাশ করেন, যেখানে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সমালোচনা করতে গিয়ে ‘মক্কা’ সম্পর্কে একটি আপত্তিকর উপমা ব্যবহার করেছেন।

ছবিটির সঙ্গে যুক্ত ব্যাখ্যায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লিখেছেন, ‘সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রেসিডেন্সিয়াল লাইব্রেরি দশ বছর পর আমেরিকাকে ঘৃণা করে এমন লোকদের জন্য মক্কার মতো হয়ে উঠবে।’

পবিত্র নগরী মক্কা সম্পর্কে ট্রাম্পের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ইয়েমেনের রাজধানী সানায় বিভিন্ন সমাবেশ ও মিছিল হয়।

মিছিল শেষে অংশগ্রহণকারীরা এক বিবৃতি প্রকাশ করে, যেখানে তারা ‘বিশ্বব্যাপী জায়নবাদ তথা ইহুদি-বর্ণবাদ এবং তার সহযোগীদের পক্ষ থেকে ইসলামের পবিত্রতা ও ধর্মীয় প্রতীকগুলোর বিরুদ্ধে পরিচালিত সংগঠিত ও পরিকল্পিত অবমাননার’ তীব্র নিন্দা জানান।

বিক্ষোভকারীরা বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের উদ্দেশ্য হলো মুসলিম উম্মাহকে হেদায়েত ও আলোর উৎস থেকে বিচ্ছিন্ন করা এবং তাদেরকে ধর্ম ও আল্লাহর পথে চলা থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া।

বিবৃতির আরেক অংশে উল্লেখ করা হয় যে মুসলিম উম্মাহর নীরবতা ও নিষ্ক্রিয়তা ‘পবিত্রতার অবমাননা’ অব্যাহত থাকার অন্যতম কারণ।

এছাড়া বিবৃতিতে বলা হয়, মক্কা সম্পর্কে ট্রাম্পের কথিত মন্তব্য তার মানসিক অবস্থার প্রতিফলন এবং প্রতিশোধপরায়ণ মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ। একই সঙ্গে এতে বলা হয় যে ইরান ও ‘ইসলামি ফ্রন্ট’-এর কাছে তার ‘ঐতিহাসিক পরাজয়ের’ প্রেক্ষাপটে এই মন্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।

সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা ইসলাম ধর্মের মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর হিজরতের বার্ষিকী উপলক্ষে আনসারুল্লাহর নেতাকে এবং সমগ্র মুসলিম উম্মাহকে শুভেচ্ছা জানান। তারা ইসলামের প্রতি তাদের সমর্থন অব্যাহত রাখার অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করেন।

বিবৃতির আরেক অংশে ইরান, লেবাননের ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহ এবং ‘জিহাদ ও প্রতিরোধ অক্ষ’-কে পশ্চিমা শক্তি ও বৈশ্বিক আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে অর্জিত ‘ঐতিহাসিক বিজয়’-এর জন্য অভিনন্দন জানানো হয়।

বিবৃতির শেষাংশে জনগণকে নতুন এক মোকাবিলার পর্যায়ের জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানানো হয় এবং ‘শত্রুদের হুমকি ও বৈরী উদ্দেশ্য’ সম্পর্কে সতর্ক ও প্রস্তুত থাকার ওপর জোর দেওয়া হয়।

সমালোচকদের মতে, এই মন্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিরোধের সঙ্গে ইসলামের প্রতীককে যুক্ত করার প্রচেষ্টা বলে উল্লেখ করে এর বিরুদ্ধে তীব্র আপত্তি জানানো হয়।
সূত্র: সাবা

BD Short News 24

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *