টেকসই এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিতে আরও সময় চায় বাংলাদেশ
নিজস্ব প্রতিবেদক
স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের আগে আরও দীর্ঘ প্রস্তুতিমূলক সময় চেয়েছে বাংলাদেশ। অতিরিক্ত সময় পাওয়া গেলে মসৃণ ও টেকসই উত্তরণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি উত্তরণ-পরবর্তী অর্থনীতিকে আরও সক্ষম ও অভিঘাতসহনশীল করে তোলা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে এলডিসিভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বার্ষিক বৈঠকে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ কথা বলেন।
বাংলাদেশের অতিরিক্ত প্রস্তুতির সময় চাওয়ার বিষয়টি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বিবেচনাধীন থাকায় এলডিসি গ্রুপের দেশগুলোর অব্যাহত সমর্থন কামনা করেন হুমায়ুন কবির।
তিনি বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণের পথে থাকা দেশগুলোর সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার বাস্তবায়ন এবং মসৃণ উত্তরণ কৌশল কার্যকর করতে অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন।
ছয় অগ্রাধিকারে জোর
দোহা কর্মসূচির মধ্যমেয়াদি পর্যালোচনাকে সামনে রেখে এলডিসিভুক্ত দেশগুলোর জন্য ছয়টি অগ্রাধিকারের কথা তুলে ধরেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
এর মধ্যে সরকারি উন্নয়ন সহায়তা (ওডিএ) কমে যাওয়ার প্রবণতা রোধ, সহজ শর্তে অর্থায়নের সুযোগ বাড়ানো, বাজারে প্রবেশাধিকার উন্নত করা এবং অভিযোজন ও ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় পূর্বানুমেয় জলবায়ু অর্থায়ন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
অবৈধ আর্থিক প্রবাহ মোকাবিলা এবং পাচার হওয়া সম্পদ পুনরুদ্ধারে আরও জোরালো আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আহ্বান জানান হুমায়ুন কবির। পাশাপাশি শিল্পায়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তিতে সহায়তা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
প্রবৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ
হুমায়ুন কবির বলেন, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা, ঋণের চাপ, সরকারি উন্নয়ন সহায়তা কমে যাওয়া, খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তাহীনতা এবং জলবায়ু সংকট এলডিসিভুক্ত দেশগুলোর সক্ষমতার পরীক্ষা নিচ্ছে।
তিনি জানান, এলডিসিভুক্ত দেশগুলোর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এখনো ৭ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রার নিচে রয়েছে। ২০২৬ সালে প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৬ শতাংশ এবং ২০২৭ সালে ৫ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ‘থ্রি-আর’ কৌশল—রিকভারি, রেস্টোরেশন ও রিকনস্ট্রাকশন—টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে গ্রহণ করা হয়েছে।
এলডিসি গ্রুপের চেয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য নেপালকে ধন্যবাদ জানান তিনি। সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর নেপালের প্রতি সংহতি প্রকাশের পাশাপাশি পরবর্তী চেয়ার হিসেবে গাম্বিয়াকে স্বাগত জানান হুমায়ুন কবির।
