মিরপুরে ১০ হাজারের বেশি পুলিশ মোতায়েন, শ্রমিক আন্দোলন ঘিরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে
রাজধানীর মিরপুরে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ১০ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) এলাকায় শ্রমিকদের সড়কে নামতে দেখা যায়নি। পুলিশের দাবি, বর্তমানে মিরপুরের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
বুধবার মিরপুরের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম পুলিশ কমিশনার মো. মহিদুল ইসলাম এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, মিরপুর-১, পল্লবী, রূপনগর, মিরপুর-১২ ও কাফরুল রোডসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সব মিলিয়ে ১০ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করছেন।
মহিদুল ইসলাম বলেন, আন্দোলনের নামে যারা জনদুর্ভোগ সৃষ্টি, সড়ক অবরোধ, গাড়ি ভাঙচুর এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ নষ্ট করার চেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত অনেককে গ্রেপ্তার করে মামলা দেওয়া হয়েছে। তদন্তে যাদের বিরুদ্ধে অপরাধের প্রমাণ পাওয়া যাবে, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।
গ্রেপ্তারের সংখ্যা সম্পর্কে তিনি বলেন, অভিযান চলমান থাকায় এ মুহূর্তে সুনির্দিষ্ট সংখ্যা জানানো সম্ভব নয়। তবে আটকের পর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। অপরাধে জড়িত থাকার প্রমাণ না পাওয়া গেলে নিরীহ শ্রমিক ও পথচারীদের ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যাতে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে পুলিশ সতর্ক রয়েছে।
মিরপুরের পরিস্থিতি তুলে ধরে ডিএমপির এই কর্মকর্তা বলেন, বুধবার শ্রমিকদের সড়কে নামার সুযোগ হয়নি। এলাকার পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে। অনেক পোশাক কারখানার শ্রমিক কাজে ফিরেছেন এবং কারখানাগুলোতে উৎপাদন কার্যক্রম চলছে।
তিনি আরও জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের পাশাপাশি স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি), আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন), গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি), কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) এবং অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থা যৌথভাবে কাজ করছে।
সহিংসতায় জড়িতদের সতর্ক করে মহিদুল ইসলাম বলেন, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষা করা পুলিশের প্রধান দায়িত্ব। কারখানায় আগুন দেওয়া, গাড়ি ভাঙচুর ও অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের ছাড় দেওয়া হবে না।
শ্রমিকদের বেতন-ভাতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বেতন সমন্বয়ের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে শ্রমিক মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। শ্রমিকদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর প্রক্রিয়াও চলছে। তাঁর দাবি, একটি স্বার্থান্বেষী মহল তৈরি পোশাক খাতকে ক্ষতিগ্রস্ত ও দেশকে অস্থিতিশীল করতে শ্রমিকদের উসকানি দিচ্ছে। তবে অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের মুখোমুখি করা হবে।
